নিজস্ব প্রতিবেদক> 

দেশের অর্থনীতিতে ৩০ শতাংশ অবদান রাখা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তা এখনো ব্যাংক ঋণের সুবিধার বাইরে। প্রচলিত ঋণ প্রক্রিয়ার জটিলতা কাটিয়ে এই উদ্যোক্তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে আনতে ডিজিটাল ঋণ ব্যবস্থা চালু ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক বিকল্প ক্রেডিট স্কোরিং চালু করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে এসএমই ফাউন্ডেশন ও এশিয়া ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম এবং ডিজিটাল ঋণ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে এসএমই ঋণ সহজীকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও নীতিনির্ধারকরা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের ১ কোটি ১৭ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের ৯৯ শতাংশই সিএমএসএমই খাতের, যা শিল্প খাতের ৮৫ শতাংশ কর্মসংস্থান জোগান দেয়। তবে সেমিনারে উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, ১ কোটি ১৭ লাখ উদ্যোক্তার মধ্যে সরাসরি ব্যাংক ঋণ পান মাত্র ৯ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের (এমএফআই) মাধ্যমে পান ১৪ শতাংশ। ফলে এখনও প্রায় ৭৭ শতাংশ এসএমই উদ্যোক্তা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের বাইরে রয়ে গেছেন। বিশেষ করে জামানতের অভাব ও কাগজপত্র না থাকায় নারী ও নতুন উদ্যোক্তারা বেশি বঞ্চিত হচ্ছেন।

এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন ও দি এশিয়া ফাউন্ডেশন যৌথভাবে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক বিকল্প ক্রেডিট স্কোরিং পদ্ধতির সম্ভাবনা যাচাই ও ফিনটেক প্রযুক্তির ব্যবহারে অর্থায়ন সহজ করা।

সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক খালিদ মাহমুদ খান, এশিয়া ফাউন্ডেশনের টিম লিডার সারা এল. টেইলর এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা খান।

সভাপতির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, ডিজিটাল ব্যবসা ও উদ্ভাবনী আর্থিক সেবার উন্নয়ন ছাড়া বিকল্প নেই।” সেমিনারে বক্তারা একমত হন যে, এআই ক্রেডিট স্কোরিং ও ফিনটেক প্রযুক্তি বাস্তবায়িত হলে উদ্যোক্তা ও ব্যাংকগুলোর মধ্যকার দূরত্ব কমে আসবে এবং ক্ষুদ্র খাতের চাকা দ্রুত ঘুরবে।

Leave A Reply

Exit mobile version