রংপুর ব্যুরো
তিস্তা নদীর ভাঙ্গন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে রংপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস ঘেরাওসহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ক্ষতিগ্রস্তরা।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে গঙ্গাচড়া উপজেলার ভাঙ্গনের শিকার নোহালী, কোলকোন্দ ইউনিয়নের চরে বসবাস করার শতাধিক ভুক্তভোগী মিছিল নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস ঘেরাও করে। এরপর তারা কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভের পর অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। ঘন্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, এনসিপি’র জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, বাগডোহরার কৃষক মফিজ উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, ফজলু মিয়াসহ অন্যরা।
এতে বক্তারা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন পকেট উন্নয়ন বোর্ডে পরিণত হয়েছে। তারা ইচ্ছেমত ভাঙ্গন রোধে নামে মাত্র কাজ করা, ঠিকাদার নিয়োগসহ তিস্তা নদী শাসনের নামে অনিয়ম-দূর্নীতি করে চলেছে। চলতি বছর যেসব এলাকায় ভাঙ্গন দেখা গেছে, গত ৩-৪ বছর ধরে সেখানে ভাঙ্গন রোধে কাজ করার দাবী জানিয়ে আসছে নদীপাড়ের মানুষ। গত ১৫ দিন আগেও ভাঙ্গনের শংঙ্কায় যে স্থানে কাজ করার দাবি জানানো হয়েছিল, কাজ না হওয়ায় সেখানকার প্রায় ৪৬টি বাড়ি গত এক সপ্তাহে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে তিস্তাপাড়ের মানুষ। তারা এখন পর্যন্ত কোথাও মাথা গোঁজার ঠাঁই পায়নি। অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা আশ্বাস ও পরিদর্শনে তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছে। অবিলম্বে ভাঙ্গন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধের হুশিয়ারি দেন নদী ভাঙ্গনের শিকার মানুষেরা। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়া মানুষদের নদী ভাঙ্গন রোধে দপ্তরের উদ্যোগের কথা জানান। পরে আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান তারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর ডান তীরে শহরসহ মানুষের বসবাস ও আবাদী জমি রয়েছে। তাই ডান তীরে বাঁধ দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছে। কিন্তু বামতীরের দিকে তিস্তা নদী কয়েকটি চ্যানেল দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তাই দ্বীপ চরে ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থায়ী কোন পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ নেই। ফলে সেই সমস্ত দ্বীপ চরে বসবাসকারীরা প্রতি বছর ভাঙ্গনের শিকার হন। যেহেতু দ্বীপ চরগুলোতে মানুষ বসবাস করে, তাই তাদের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা জিও ব্যাগ ফেলে, বাঁশের পাইলিং করে ভাঙ্গন প্রতিরোধে কাজ করছি। তিস্তা নিয়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 3 hours আগে

