অর্থকাগজ ডেস্ক>
টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের রাজনৈতিক সাফল্যের দাবি করেছে নবগঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। ডাক্তারি ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
সিজেপির উত্থানের পেছনে রয়েছে একটি বিতর্কিত মন্তব্য। গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক মামলার শুনানিতে বেকার ও আন্দোলনরত তরুণদের ‘আরশোলা’ ও ‘সমাজের পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেন। সেই মন্তব্যের প্রতিবাদে এবং ব্যঙ্গাত্মক প্রতীক হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম চালু হয়। বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই প্ল্যাটফর্ম অল্প সময়ের মধ্যেই দেশজুড়ে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
পরবর্তীতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ এবং একের পর এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনার জেরে অনলাইন আন্দোলন রূপ নেয় রাজপথের বিক্ষোভে। রাজধানী দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ এতে অংশ নেন।
আন্দোলন চলাকালে একাধিকবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। জুনের শেষ দিকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচিতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। আন্দোলনে যোগ দেন শিক্ষাবিষয়ক কর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি টানা ২৬ দিন অনশন করেন। সরকারের কঠোর অবস্থান, গ্রেপ্তার এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কটূক্তির পরও কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন বিক্ষোভকারীরা।
শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে আশ্বাস এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলনের প্রথম লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বলে ঘোষণা দেয় সিজেপি।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, “আমাদের ‘আরশোলা’ বলে অপমান করা হয়েছিল। সেই অপমানই দেশের তরুণদের একত্রিত করেছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ালে পরিবর্তন সম্ভব—এই আন্দোলন সেটিই প্রমাণ করেছে।”
তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্যেই আন্দোলনের সব দাবি পূরণ হয়েছে বলে মনে করছে না সংগঠনটি। তারা নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং বিক্ষোভ দমনে পুলিশের বলপ্রয়োগের জন্য সরকারের প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 3 hours আগে

