কামরুজ্জামান চাঁদ>
সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তিকে সামনে রেখে আগামী আগস্টে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে—এমন আলোচনা এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে জোরালো হয়েছে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন শেষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের পাশাপাশি নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির বিষয়ও সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিবেচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, সরকারের নীতি বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো, প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই সম্ভাব্য এই পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে যেসব মন্ত্রণালয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বা সমন্বয়ের ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হতে পারে।
সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েকজন মন্ত্রীর কার্যক্রম নিয়ে ইতোমধ্যে মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই আগস্টে সীমিত পরিসরে মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে। পাশাপাশি মন্ত্রিসভার আকারও কিছুটা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি কয়েকজন টেকনোক্র্যাটকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। সম্ভাব্য নামের তালিকায় বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম ঘুরে বেড়ালেও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাদের ভাষ্য, মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ বা রদবদল সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক এখতিয়ার। প্রয়োজন মনে করলে তিনি যেকোনো সময় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
সূত্র বলছে, সম্ভাব্য রদবদলের পাশাপাশি মন্ত্রিসভার আকার কিছুটা বাড়ানোর বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও টেকনোক্র্যাটকে অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা চলছে। আলোচনায় যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন এবিএম মোশাররফ হোসেন, সেলিমা রহমান, ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বরকত উল্লাহ বুলু ও জয়নুল আবদিন ফারুক। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নামও বিবেচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। শুরুতে তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় ৪৯ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন।
সর্বশেষ হালনাগাদ 4 hours আগে

