নিজস্ব প্রতিবেদক>
দেশের জনপ্রিয় অডিও-ভিডিও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেলো কণ্ঠশিল্পী মামনুরের নতুন একক গান ‘ছুঁয়ে গেছো’। গানটি নিয়ে দীর্ঘ প্রস্তুতি ও এক নান্দনিক অনুভূতির কথা জানিয়েছেন এই শিল্পী। তাঁর মতে, একটি গান শুধু তৈরি হয় না, এর প্রতিটি শব্দের ভেতর দিয়ে হেঁটে যেতে হয় এবং সুরের কাছে সমর্পণ করলে তবেই একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পকর্মের জন্ম হয়।
‘ছুঁয়ে গেছো’ গানটির কথা লিখেছেন মোক্তার হোসেন। গীতিকার হিসেবে তাঁর মুনশিয়ানা ও শব্দের দ্যোতনা শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে বলে আশাবাদী শিল্পী। গানটিতে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি এর সুরও করেছেন মামনুর নিজে।
এই গায়কী যাত্রায় মামনুরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন একদল প্রতিভাবান সংগীতশিল্পী। গানটির লিড ও বেইজ গিটার ওয়ার্কস করেছেন শামসুজ্জামান জামান। তাঁর জাদুকরী গিটারের ছয় তারের সুর প্রতিটি নোটকে আরও আবেগঘন ও প্রবল করে তুলেছে।
গানটির সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বাংলা ব্যান্ড ও আধুনিক গানের কিংবদন্তি শিল্পী এস আই টুটুল। তিনি গানটিতে পিয়ানো ও কিবোর্ড বাজিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে শিল্পী মামনুর জানান, গুরু আজম খান ও প্রিন্স মাহমুদের গান এবং এ বি-র এলআরবি (LRB) ব্যান্ডের বাইরে এস আই টুটুল সাধারণত নিজের গান ছাড়া অন্য কারও গানে কিবোর্ড বা পিয়ানো বাজান না। তাঁর মতো একজন কিংবদন্তির এই অংশগ্রহণ শিল্পীজীবনের জন্য এক পরম আশীর্বাদ ও বড় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন মামনুর।
গানটির সার্বিক সংগীত আয়োজন, মিক্স ও মাস্টারিংয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন জোহান ইসলাম। একজন ভাস্কর যেমন নিপুণ হাতে স্বপ্নকে রূপ দেন, তেমনি পরম যত্নে গানটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়েছেন তিনি।
অডিও ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান প্রেক্ষাপটে একজন শিল্পীর অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম কি হতে পারে - প্রশ্নের জবাবে শিল্পী মামুনুর জানান, বর্তমান অডিও ইন্ডাস্ট্রি এক অদ্ভুত ও রূপান্তরকালীন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সিডি বিক্রির স্বর্ণযুগ অনেক আগেই পেরিয়ে এসেছে সংগীত জগত। প্রতিদিন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে যুক্ত হচ্ছে কোটি কোটি নতুন গান। তবে ডিজিটাল যুগে এসেও প্রতি স্ট্রিমের নামমাত্র আয়ে একজন স্বাধীন শিল্পীর পক্ষে শুধু এর ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। বড় লেবেলগুলোর বিশাল প্রচারণার ভিড়ে অনেক গুণী শিল্পীর ভালো কাজও মাঝেমধ্যে হারিয়ে যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই চ্যালেঞ্জিং সময়টিই আসলে একজন স্বাধীন শিল্পীর জন্য সবচেয়ে বড় সম্ভাবনার কাল। ইউটিউব চ্যানেল, স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিক বা অন্যান্য স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে নিজের গান প্রকাশের মাধ্যমে শিল্পী নিজেই তাঁর সৃষ্টির স্বত্ব বা মালিকানা ধরে রাখতে পারেন। একটি গান হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে খুব বড় অঙ্কের আয় এনে দেয় না, কিন্তু তা বছরের পর বছর শিল্পীর ডিজিটাল সম্পদ হিসেবে জমা হতে থাকে। স্ট্রিমিং রয়্যালটি, ইউটিউব মনিটাইজেশন, কনটেন্ট আইডি লাইসেন্সিং এবং লাইভ পারফরম্যান্সের সুযোগ—সব মিলিয়ে একজন স্বাধীন শিল্পী ধীরে ধীরে নিজের একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সক্ষম হন।
সর্বশেষ হালনাগাদ 1 hour আগে

