অর্থকাগজ প্রতিবেদন
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর টানা তিন কার্যদিবস বিক্রেতা সংকটে ঊর্ধ্বমুখী থাকা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ারে অবশেষে বিক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। এর ফলে মঙ্গলবার (১৬ জুন) লেনদেনের একপর্যায়ে শেয়ারটির দাম সর্বোচ্চ সীমায় উঠলেও দিন শেষে দরপতন হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর প্রথম দুই কার্যদিবস ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে ক্রেতা সংকট দেখা দিলেও পরবর্তী তিন কার্যদিবসে পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে যায়। ওই সময়ে বিক্রেতা প্রায় শূন্য হয়ে পড়ায় প্রতিদিনই শেয়ারটির দাম সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে এবং লেনদেন স্থগিত (হল্টেড) হয়।
তবে মঙ্গলবার বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। দিনের শুরুতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলেও একপর্যায়ে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিতে বিক্রির চাপ বাড়ান। ফলে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় শেয়ারটির দাম ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
দিনের শুরুতে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ৩৫ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন শুরু করে। একপর্যায়ে এটি সর্বোচ্চ ৩৮ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত ওঠে, যা ছিল সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা। তবে বিক্রির চাপ বাড়ার ফলে শেয়ারটির দাম সর্বনিম্ন ৩৩ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে আসে। লেনদেন শেষে আগের দিনের তুলনায় ১ টাকা ১০ পয়সা কমে শেয়ারটির সমাপনী মূল্য দাঁড়ায় ৩৪ টাকা ১০ পয়সা।
দিনজুড়ে ব্যাংকটির শেয়ারে সক্রিয় লেনদেন হয়েছে। মোট ২ হাজার ৬৫৭ বার হাতবদলের মাধ্যমে ২০ লাখের বেশি শেয়ার লেনদেন হয়, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৭ কোটি ২১ লাখ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক দিনের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির পর মঙ্গলবারের লেনদেন বাজারে স্বাভাবিক চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতির প্রতিফলন। মুনাফা তুলে নিতে বিনিয়োগকারীদের বিক্রির আগ্রহ বাড়ায় শেয়ারটির মূল্য কিছুটা সমন্বয় হয়েছে।
অন্যদিকে, ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারে। কোম্পানিটির শেয়ার টানা ষষ্ঠ কার্যদিবস ক্রেতা সংকটে পড়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় দরপতনের মাধ্যমে হল্টেড হয়েছে। মঙ্গলবার শেয়ারটির দাম ১০ শতাংশ কমে ৫৮ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে আসে। এদিন কোম্পানিটির ৩৮ হাজার ৪৪১টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সর্বশেষ হালনাগাদ 11 hours আগে

