অর্থকাগজ প্রতিবেদন 

শেয়ার বাজারে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। ৬ নভেম্বর জারি হওয়ার পর থেকেই এই বিধিমালা বিনিয়োগকারী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে এবং লেনদেনের ধারাবাহিকতায় দৃশ্যমান অস্থিরতা দেখা দিয়েছে—বিশেষত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।

নতুন বিধিমালার মূল পরিবর্তনগুলো মার্জিন অ্যাকাউন্ট খোলার যোগ্যতা শর্ত এবং মার্জিন সুবিধার অনুপাতের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। প্রথমবারের মতো পূর্ববর্তী এক বছরের গড় বিনিয়োগকে ন্যূনতম ৫ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ যাদের পোর্টফোলিও এ সীমার নিচে, তারা নতুন করে মার্জিন সুবিধা পাবেন না। ইতোমধ্যে যারা মার্জিন ঋণ ব্যবহার করছেন কিন্তু তাদের পোর্টফোলিও ৫ লাখ টাকার নিচে, তাদেরকে এক বছরের মধ্যে এই সীমা অতিক্রম করতে হবে—নইলে তারা জোরপূর্বক বিক্রির ঝুঁকিতে পড়বেন।

বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে—নিয়মিত ও প্রমাণযোগ্য আয়ের উৎস নেই এমন ব্যক্তিরা, যেমন ছাত্র, গৃহিণী বা অবসরপ্রাপ্তরা, আর্থিক ঝুঁকি বিবেচনায় মার্জিন ঋণের জন্য অযোগ্য হবেন। পাশাপাশি, মার্জিন ঋণ শুধুমাত্র শেয়ার কেনার জন্য ব্যবহার করা যাবে; অন্য কোনো খাতে অর্থ উত্তোলন বা স্থানান্তর নিষিদ্ধ।

পোর্টফোলিও মূল্য অনুযায়ী মার্জিন সুবিধার নতুন কাঠামোও কঠোর হয়েছে। ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকার মধ্যে পোর্টফোলিও থাকলে বিনিয়োগকারী তার ইকুইটির সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন (১:০.৫ অনুপাত)। আর ১০ লাখ টাকার বেশি পোর্টফোলিওর ক্ষেত্রে সুবিধা বাড়িয়ে ১:১ অনুপাতে নির্ধারণ করা হয়েছে। বীমা খাতের শেয়ারের জন্য সর্বোচ্চ মার্জিন সীমা ৫০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও নতুন বাধ্যবাধকতা আনা হয়েছে। গ্রাহকের ইকুইটি নির্ধারিত মাত্রার ৭৫ শতাংশে নেমে এলে মার্জিন কল দিতে হবে। আর পোর্টফোলিওর মূল্য অর্ধেকে নেমে এলে জোরপূর্বক বিক্রি হবে—এ ক্ষেত্রে ব্রোকারেজ হাউসের কোনো বিবেচনাধিকার থাকবে না। তাছাড়া, মার্জিন ঋণের সুদ প্রতি ত্রৈমাসিকে নগদ বা শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মার্জিন যোগ্য শেয়ার বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও আরও কঠোরতা আনা হয়েছে। ন্যূনতম ৫০ কোটি টাকা ফ্রি-ফ্লোট মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন নেই এমন কোম্পানির শেয়ার মার্জিনযোগ্য নয়। একইভাবে, আর্থিক সংকটে থাকা, পরিচালনা স্থগিত বা যোগ্য নিরীক্ষা মতামতপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলোকেও বাদ রাখা হয়েছে।

নিয়ম প্রকাশের পর থেকেই বাজারে তীব্র দরপতন দেখা যায়। বিনিয়োগকারীদের আবেগজনিত প্রতিক্রিয়া ও তরলতার সংকট প্রকট হওয়ায় ১২ নভেম্বর হাইকোর্ট নতুন বিধিমালার বৈধতা নিয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। তবুও বাজারের দুর্বল মানসিকতা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর আস্থাহীনতার কারণে সামগ্রিকভাবে এই বিধিমালা তাদের ওপর সবচেয়ে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে—এমনটাই মনে করছেন বাজার–সংশ্লিষ্টরা।
অকা/পুঁবা/ই/সকাল/১৯ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 2 weeks আগে

Leave A Reply

Exit mobile version