অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
বছরে যে পরিমাণ গ্যাসের সিস্টেম লস হয় তার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির আমদানি মূল্য ১৫ ডলার। ভবিষ্যতে দাম বাড়লে তির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি)।
৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আইবিএফবির অফিসে ‘চ্যালেঞ্জেস ইন রিফর্ম ইন এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সেক্টর’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্যাস খাতের দুর্দশা ও আর্থিক তির বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা করা হয়।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘জ্বালানির জন্য শিল্পোদ্যোক্তাদের যে সংকট, তার কারণেই জ্বালানি কনজাম্পশন বাড়েনি। আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাসের ৬০ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে বিদ্যুত উৎপাদনে, যার মধ্যে ১৮ শতাংশ যাচ্ছে ক্যাপটিভ পাওয়ারে। আবাসিকে ব্যবহার হচ্ছে ১১ শতাংশ। দেশের ২৯টি গ্যাস ফিল্ডের মধ্যে ২০টি অপারেশনে রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এনার্জি সেক্টরে সবকিছু আমদানিনির্ভর হয়ে গেছে। দেশে বর্তমানে গ্যাস উৎপাদন ২ হাজার ২০২ এমএমসিএফডি। গত পাঁচ বছরে আমরা অনেক ক্ষেত্রে সমপরিমাণ গ্যাস ব্যবহার বাড়িয়েছি। ফলে সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে।’
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে আইবিএফবির সভাপতি ও এনার্জি প্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন রশীদ বলেন, ‘আইবিএফবি সব সময় দেশের ব্যবসা ও উদ্যোক্তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অ্যাডভোকেসি করছে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েট অধ্যাপক ড. ম তামিম বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় সব খাতে তথ্য সন্ত্রাস হয়েছে, জ্বালানিতে তা আরো বেশি হয়েছে। সরকারের কিছু বিষয় জ্বালানি খাতকে মারাত্মকভাবে তিগ্রস্ত করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘টার্গেট করা হয়েছে, ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুত সুবিধা নিশ্চিতকল্পে উৎপাদনমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার। কিন্তু সেটা ধরেবেঁধে করা হয়েছে। উৎপাদন অর্ধেক হলেও কাগজে-কলমে শতভাগ দেখানো হয়েছে। সরকার এ খাত থেকে সুবিধা নিয়েছে। সেজন্য জ্বালানি খাতকে কুগিত করে রেখেছিল।’
ম. তামিম বলেন, ‘জ্বালানি-বিদ্যুত এগুলো টেকনিক্যাল বিষয়, যা রাজনৈতিকভাবে নির্ধারণ সম্ভব নয়, যেটি আমাদের দেশে হয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুত খাতের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে উন্নয়ন করতে পারেনি।’
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘জ্বালানি মন্ত্রণালয় দেশের সরকারপ্রধানের দপ্তরে থাকা সত্ত্বেও আমরা দেখেছি, গত এক দশকে কীভাবে প্রতিযোগিতা ছাড়াই এনার্জি চুক্তি করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের কোম্পানি রাতারাতি সিঙ্গাপুরের কোম্পানি হয়ে গেল। দেশের রিজার্ভ যখন সংকটে আমরা ডলার পৌঁছে দিয়ে এসেছি সিঙ্গাপুরে গিয়ে।’
বিটিএমএর পরিচালক রাজীব হায়দার বলেন, ‘গত কয়েক বছরে শিল্পে গ্যাসের দাম বেড়েছে ২০০ শতাংশের বেশি। বর্তমানে প্রতি ইউনিট ৩১ দশমিক ৫ টাকা দরে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। কোনো প্রকার নোটিস ছাড়াই দাম বাড়ানো হচ্ছে।’
এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সম্পাদক মোল্লা আমজাদের সঞ্চালনায় সেমিনারে বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি নুরুল আখতার, আইবিএফবির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী ও ভাইস প্রেসিডেন্ট এমএস সিদ্দিকী বক্তব্য রাখেন। ●
অকা/শিবা/ফর/সন্ধ্যা/৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 years আগে

