বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রায় তিন দশক ধরে পরিকল্পনার খাতায় আটকে থাকা বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্পে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন অবহেলা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা এই প্রকল্প বাস্তবায়নে এবার আগ্রহ প্রকাশ করেছে একটি চীনা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের সক্রিয় উদ্যোগ ও সমন্বয়ের ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা অনেকটাই জোরালো হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিমানবন্দরটি নির্মিত হলে শুধু বাগেরহাট নয়, সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ, বাণিজ্য, পর্যটন এবং সমুদ্রভিত্তিক ব্লু ইকোনমির বিকাশে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। একই সঙ্গে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বহুগুণে সম্প্রসারিত হবে।
১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া খানজাহান আলী বিমানবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে তিন ধাপে বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হলেও প্রকল্পটি আর এগোয়নি। এত বছর ধরে সীমানা পিলার স্থাপন ও আংশিক মাটি ভরাট ছাড়া দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে হতাশা বিরাজ করছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক নানা কারণে প্রকল্পটি বছরের পর বছর গুরুত্ব হারিয়ে পড়ে ছিল। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বহু প্রতীক্ষিত বিমানবন্দর বাস্তবায়ন অধরাই থেকে যায়।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকল্পটি নতুন করে আলোচনায় আসে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রচেষ্টাও শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি চীনের একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দল বিমানবন্দরের নির্ধারিত এলাকা পরিদর্শন করে। তারা প্রকল্পের সম্ভাবনা যাচাই করেন এবং নির্মাণকাজে আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চীনা বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি দলের সদস্য মি. পিটার বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তারা এটির কাজে আগ্রহী।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম বলেন, এই বিমানবন্দর বাস্তবায়ন হলে খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দেখতে চান তারা।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বিমানবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিমানবন্দর চালু হলে মোংলা বন্দর, ইকোনমিক জোন, পর্যটন শিল্প এবং দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে থাকা বিস্তীর্ণ এই ভূমি এখন নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, দ্রুত প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং শিল্পায়নেরও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 hours আগে

