অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
আমদানি চাহিদা বৃদ্ধি ও রিজার্ভ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তোড়জোড়ের মধ্যে চড়ছে মার্কিন ডলারের দাম।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া দর ১২০ টাকা হলেও ১৭ ডিসেম্বর কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক রেমিটেন্স কিনেছে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২৭ টাকায়। মানি এক্সচেইঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোও বেশি দরে বিক্রি করছে ডলার ।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় টাকা ও ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণে ‘নতুন মেকানিজম’ চালুর কথা বলছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা। ১৯ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোজাকে সামনে রেখে বেড়েছে আমদানি চাহিদা। অপরদিকে আইএমএফ এর শর্ত মেনে ডিসেম্বর শেষে নিট রিজার্ভ ১৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। সেজন্য ‘ডলার বিক্রি না করে’ উল্টো বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ অবস্থায় আমদানি ব্যয় বেড়ে নভেম্বরে বেড়ে যাওয়া মূল্যস্ফীতি আরও চড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, “ডলার দর বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। মূলত আসন্ন রোজাকে কেন্দ্র করে আমদানি বাড়াচ্ছে ব্যাংকগুলো। তাতে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। তবে আমদানির চাহিদা মোতাবেক রেমিটেন্স ও রফতানির প্রবাহ এখনও পর্যাপ্ত নয়।

আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে। তাতে অনেক ব্যাংক ইন্টারব্যাংকে ডলার না দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বিক্রি করছে। আর বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোও ব্যাংকগুলোতে বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধান বলেন, ব্যাংক দুইটা উৎস থেকে ডলার ক্রয় করে- রেমিটার ও এক্সপোর্টার। রফতানিকারকদের কাছ থেকে যে ডলার কেনা হয় সেটা ১১৯-১২০ টাকার মধ্যেই কেনা হয়। আর রেমিটেন্স কেনা হয় আরেকটু বেশি দামে। এ দুটোর টাকাকে গড় করে এলসি খোলা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক আগে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করত, সেটা বন্ধ আছে। উল্টো বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ বাড়ানো জন্য ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে। আর রোজার মাসকে কেন্দ্র করে আমদানি এলসি খোলা বাড়ছে। সেজন্য ব্যাংকগুলোরও এলসি খোলার জন্য ডলারও বেশি দরকার।

সিটিজেনস ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ মাসুম বলেন, আমরা আশা করি নাই ডলারের দাম এত বাড়বে। কারণ ১২৭-১২৮ টাকা হয়ে যাচ্ছে। আবার বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি করছে না।

দর বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমদানির এলসির চাহিদা বেড়ে যাওয়ার জন্য একটা চাপ তৈরি হয়েছে। আরেকদিকে আইএমএফ এর একটা শর্ত রয়েছে যে রিজার্ভ নিচে না নামে।

মে মাসে ডলার দর বিনিময় হার ‘ক্রলিং প্রেগ’ পদ্ধতি চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে ডলারের দর এক লাফে ৭ টাকা বেড়ে ১১৭ টাকা হয়। এরপর ‘ক্রলিং পেগ’ পদ্ধতিতে ডলার দর ১২০ টাকা করা হয়। এখন ফের ডলার দর বৃদ্ধির কারণে নতুন পথ খুঁজছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে ডলার দর বেড়ে আমদানি ব্যয় বাড়লে এ মাসে মূল্যস্ফীতি আরও চড়তে পারে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) হালনাগাদ তথ্যে মূল্যস্ফীতি নভেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশে। আগের মাসে এই হার ছিল ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ●

অকা/আখা/ফর/সকাল/১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 1 year আগে

Leave A Reply

Exit mobile version