অর্থকাগজ প্রতিবেদন ● 

নিরাপত্তা নিয়ে বেশ উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে দেশের বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। কদিন আগে অফিস চলাকালীন রাজধানীর দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ের সামনে এসে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারীর পদত্যাগ চেয়ে বর্তমান ও সাবেক কতিপয় দেশের বীমা কর্মী স্নোগান দেয়। আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানসহ লাইফ বীমার একজন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অশালীন উক্তি এবং অশোভন বাক্য উচ্চারণ করে বিক্ষোভরত কর্মীরা কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

গতকাল (১৪ আগস্ট, ২০২৪) একই ধরনের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। তবে গতকালকের পরিস্থিতিটি ছিল আক্রমনাত্মক। বিক্ষোভকারী এক দল লোক ৩৭/এ দিলকুশা বা/এ’র ৯ তলায় অবস্থিত আইডিআরএ’র কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অর্থকাগজকে জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগে বহিরাগত শতাধিক উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি অফিস চলাকালে এসে আপত্তিকর স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে। তারা আজ (১৫ আগস্ট) আসবে বলে কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিয়ে যায়।

আইডিআরএ’র নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে চিন্তা করে  বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ  এর পক্ষে পরিচালক (প্রশাসন) সুবীর চৌধুরী রাজধানীর মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি গতকালই অবহিত করেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকেও বিষয়টি জানানো হয়। এ ব্যাপারে আইডিআরএ’র কার্যালয়ে পুলিশ নিরাপত্তার ব্যবস্থা চেয়ে একটি সাধারণ ডাইরী করা হয় (জিডি -৪১৭, ১৪/৮/২৪)। জানা গেছে, আইডিআরএ’র  কার্যালয়ে আজ পুলিশ মোতায়েন ছিল।

অপর একটি সূত্র জানায়, এ ঘটনার ইন্ধন দিচ্ছেন বেসরকারি জীবন বীমার বহিস্কৃত একজন কর্মকর্তা। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেইস বুকে লাইভে এসে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানসহ লাইফ বীমার একজন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অশালীন উক্তি এবং অশোভন বাক্য উচ্চারণ করে বীমা কর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।

এ দিকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামসহ বিভিন্ন বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে ফেইস বুকে অপপ্রচার করায় জি এম সজলের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ১৪ আগস্ট রাজধানীর মতিঝিল থানায় বাদি হয়ে এই সাধারণ ডায়েরি করেন আলতাফ হোসেন নামের একজন বীমা কর্মকর্তা। জিডি নম্বর- ৩৭৭। সাধারণ ডাইরীতে তিনি অপপ্রচারের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।
জিডিতে বলা হয়, জি এম সজল নামের জনৈক ব্যক্তি ফেইস বুক লাইভে এসে ‘ব্যাংক বীমা প্রতিদিন ও বীমা সংবাদ প্রতিদিন’ নামীয় দু’টি ফেইসবুক একাউন্ট থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন বীমা কোম্পানিসহ পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর সিইও বি এম ইউসুফ আলী, কোম্পানি সচিব মোস্তফা হেলাল কবিরসহ কোম্পানির বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ছবিসহ মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে বিভিন্ন আন্দোলনের ডাক দেয়া, ভিত্তিহীন বক্তব্য ও মন্তব্য করে ব্যাপক মানহানি ও সুনাম ক্ষুন্ন করছেন।

জিডিতে আরও বলা হয়, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এবং বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম এর প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য । 

অজ্ঞাত কোন কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় অন্যায়ভাবে লাভবান হয়ে জি এম সজল নামের ব্যক্তি বীমাকে ধ্বংস করার জন্য মিথ্যা, ভিত্তিহীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য ও মন্তব্য করে দেশের বীমা খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং বীমা গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করছে যা দেশের অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে বীমা খাতসহ, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধন ও মানহানিতে লিপ্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় জিডিতে। ● 

অকা/বীখা/বিপ্র/ বিকেল/ ১৫ আগস্ট, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ

 

 

 

সর্বশেষ হালনাগাদ 2 years আগে

Leave A Reply

Exit mobile version