অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
ঈদুল আজহার ছুটি-পরবর্র্তী প্রথম কার্যদিবসে পুঁজি বাজারের ইতিবাচক আচরণ চাক্ষুষ করলেন বিনিয়োগকারীরা। এ দিন লেনদেনের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাবে বাজারগুলো অপ্রত্যাশিত বিক্রয় চাপের শিকার হলেও দ্রুতই তা সামলে ওঠে। দিনশেষে উভয় বাজারে সূচকের উন্নতি ঘটেছে। বৃদ্ধি পায় প্রধান বাজারের লেনদেনও।
প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১৪ দশমিক ৯১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। চার হাজার ৭০৯ দশমিক ০৯ পয়েন্ট নিয়ে শুরু করা সূচকটি ১৫ জুন দিনশেষে পৌঁছে যায় চার হাজার ৭২৪ দশমিক ৯১ পয়েন্টে। তবে দিনের শুরুতে প্রচণ্ড বিক্রয়চাপের মুখে সূচকটি নেমে এসেছিল চার হাজার ৬৮৩ পয়েন্টে। এ সময় সূচকের অবনতি রেকর্ড করা হয় ২৬ পয়েন্টের বেশি। অবশ্য দ্রুতই আবার এ চাপ সামলে নেয় বাজারটি। বেলা ২টার দিকে সূচকটি পৌঁছে যায় চার হাজার ৭৩৪ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকের উন্নতি ঘটে ২৪ পয়েন্টের বেশি। তবে দিনের সময় শেষে প্রধান সূচকটি ১৪ দশমিক ৯১ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে ডিএসই। বাজারটির অন্য দু’টি সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৯ দশমিক ১৮ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে।
অপর দিকে দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জও (সিএসই) এ দিন সবগুলো সূচকের উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। এখানে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই একই সময় ৪৫ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। অপর দু’টি সূচকের মধ্যে সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৪৮ দশমিক ৩৯ ও ২৪ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট।
ডিএসইতে সূচকের উন্নতির ফলে লেনদেন বেড়েছে। ১৫ জুন ডিএসই ২৬৩ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ৩৯ কোটি টাকা বেশি। ঈদ-পূর্ববর্র্তী ডিএসইর সর্বশেষ লেনদেন ছিল ২২৪ কোটি টাকা।
দিনের বাজার আচরণ সম্পর্কে পুঁজি বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দিনের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বিক্রয়চাপ তৈরি করলেও দ্রুত তাতে সংশোধন ঘটে। পরক্ষণেই শুরু হয় সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। তাদের মতে, এমনিতেই পুঁজি বাজার খুবই সংবেদনশীল তার ওপর আমাদের পুঁজি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে টানা মন্দার শিকার। ফলে দেশ ও দেশের বাইরের যেকোনো অঘটনের দ্রুত প্রভাব পড়ে আমাদের পুঁজি বাজারে। এর আগে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে দেশের পুঁজি বাজারকে। পতন থামাতে ব্যর্থ হয়ে তখনকার নিয়ন্ত্রক সংস্থা দীর্ঘদিন বাজারে ফোর প্রাইস চালু রাখতে বাধ্য হয়।
তবে ১৫ জুন বিনিয়োগকারীদের আচরণ ছিল ব্যতিক্রম। শুরুতে আতঙ্কে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের বিক্রয়চাপের মুখে দ্রুত নিম্নমুখী হওয়া সূচক আরো দ্রুততার সাথে চাপ সামলে নেয়। এর কারণ হিসেবে অনেকে মনে করেন, দেশে গত কয়েক মাস ধরে যে রাজনৈতিক সন্দেহ-সংশয় বিরাজ করছিল গত ১৩ জুন তার অনেকটা অপসারণ হয়েছে বলে মনে করেন দেশের সাধারণ মানুষ। তারা আশা করছেন, এটা বাজারের নেতিবাচক প্রবণতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। তবে তারা এক্ষেত্রে বরাবরের মতো বিনিয়োগকারিদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও ভালো কোম্পানির শেয়ারে থাকার পরামর্শ দেন।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস ১৫ জুন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে লাভেলো। এ দিন ২৫ কোটি ২৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় কোম্পানিটির শেয়ার হাতবদল হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ব্র্যাক ব্যাংক। ১৫ কোটি ২২ লাখ ৮২ হাজার টাকায় কোম্পানিটির ৩০ লাখ ৫১ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে এ দিন। ১৩ কোটি ৬৯ লাখ ১২ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে বিচ হ্যাচারি। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিলÑ এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সি পার্ল বিচ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, শাইনপুকুর সিরামিকস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার এবং খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪৫টির দর বেড়েছে। এ সময় সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের। কোম্পানিটির দর আগের দিনের তুলনায় তিন টাকা ৩০ পয়সা বা ১০.০০ শতাংশ বেড়েছে, যার ফলে ডিএসইর দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে এদের শেয়ার। দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় স্থানে থাকা দেশ গার্মেন্টের শেয়ার দর বেড়েছে আগের দিনের তুলনায় সাত টাকা ৫০ পয়সা বা ৯.৮৯ শতাংশ। আর এক টাকা চার টাকা ১০ পয়সা বা ৯.৮৮ শতাংশ দর বৃদ্ধিতে তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা নিয়েছে বিচ হ্যাচারি। ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে লাভেলো ৭.৮৯ শতাংশ, ফার্স্ট ফাইন্যান্স ৬.০৬ শতাংশ, টেকনো ড্রাগ ৬.০২ শতাংশ, পিপলস লিজিং ৫.৫৬ শতাংশ, ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্ট ৫.০০ শতাংশ, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ ৪.৮৮ শতাংশ ও ভ্যানগার্ড মিউচুয়াল ফান্ড ৪.৭৬ শতাংশ দর বেড়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৯টির দর কমেছে।। সবচেয়ে বেশি দর কমেছে ফিনিক্স ইন্সুরেন্সের। এ দিন কোম্পানিটির শেয়ার দর আগের দিনের তুলনায় দুই টাকা বা আট দশমিক ৫৮ শতাংশ কমেছে। এতে ডিএসইর দর পতনে প্রথম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে কোম্পানির শেয়ার। দর পতনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে আগের দিনের তুলনায় এক টাকা ৪০ পয়সা বা সাত দশমিক ২২ শতাংশ। আর এক টাকা ৫০ পয়সা বা ছয দশমিক ৯১ শতাংশ দর কমে যাওয়ায় পতনে তৃতীয় স্থানে জায়গা নিয়েছে আনলিমা ইয়ার্ন ।
ডিএসইতে দর পতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল শ্যামপুর সুগার মিলস ছয় দশমিক ৪৯ শতাংশ, নূরানি ডাইং ছয় দশমিক ২৫ শতাংশ, জুট স্পিনার্স পাঁচ দশমিক ৪৫ শতাংশ, আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি পাঁচ শতাংশ, উত্তরা ফাইন্যান্স চার দশমিক ৯০ শতাংশ, নিউ লাইন কদিং চার দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং ফ্যামিলি টেক্স চার দশমিক ৩৫ শতাংশ কমেছে। ●
অকা/পুঁবা/ফর/রাত/১৫ জুন, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 9 months আগে

