অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
বছরের প্রথম কর্মদিবস দেশের শেয়ার বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেলেও দ্বিতীয় কর্মদিবসে বাজার মূলধন কমেছে হাজার কোটি টাকা। শেয়ার বাজারের এমন অচারণ বিনিয়োগকারীদের বেশ হতাশ করেছে। দিন শেষে সকগুলো সূচক যেমন কমেছে। তেমনি টাকার অংকে লেনদেন ছিল নিম্নমুখী।

শেয়ার বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায় নতুন বছরের প্রথম কর্মদিবসে শেয়ার বাজারে সূচক বেড়েছিল ১ দশমিক ৭১ পয়েন্ট। এমন পরিস্থিতিতে বাজার মূলধন বাড়ে এক হাজার ২৮৫ কোটি টাকা। ২ জানুয়ারি দিনশেষে শেয়ার বাজারে সূচক কমেছে ১৮ পয়েন্ট। একই সাথে কমেছে লেনদেন। দিন শেষে আগের দিনের তুলনায় লেনদেনে কম হয়েছে ১৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বা ৫ শতাংশ। একই সাথে ২ জানুয়ারি কমেছে ৯৫৩ কোটি টাকা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায় ২ জানুয়ারি দিনের শুরুতে সূচকের উত্থানের মাধ্যমে লেনদেন শুরু হয়। তবে লেনদেন শুরুর মাত্র ১২ মিনিটের মাথায় সূচক পতনের ধারায় চলে আসে। এরপর পতনের ধারা অব্যাহত থাকে এবং দিন শেষে সূচক আর ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরে আসতে পারেনি। এর আগে গত এক সপ্তাহের মধ্যে তিন কর্মদিবসে পতনের কারণে শেয়ার বাজারে সূচক কমেছে ৫২ পয়েন্ট। তবে এর পর টানা চার কর্মদিবসে শেয়ার বাজারে সূচক বেড়েছে ৪৯ পয়েন্ট। অর্থাৎ চার দিনের উত্থানেও আগের তিন কর্মদিবসে হারানো সূচক উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আগের তিন দিনের পতনের যে পরিমাণ সূচক কমেছে তা ফিরে না আসতেই আবার নতুন করে সূচক কমেছে ১৮ পয়েন্ট। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শেয়ার বাজারের আচরণ বোঝা খুবই কঠিন। একদিন সূচক বাড়লে এর পর কমতে থাকে কয়েক দিন। এমন অবস্থার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা তাদের ক্ষতি থেকে উঠে আসতে পারছে না। অব্যাহত পতনে বিনিয়োগকারীরা প্রতিদিন তাদের পুঁজি হারাচ্ছেন। বিনিয়োগকারীদের পুঁজির নিরাপত্তা দিতে পারছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এভাবে চলতে থাকলে তির পরিমাণ আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

২ জানুয়ারি ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১৮ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট। দিন শেষে ডিএসইএক্স ৫ হাজার ১৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ‘ডিএসইএস’ কমেছে ৯ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট। দিন শেষে ডিএসইএস এর অবস্থান ছিল ১ হাজার ১৫৫ পয়েন্ট। এবং ‘ডিএস-৩০’ সূচক কমেছে ১০ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট। শেষ সময়ে ডিএসইএস এর অবস্থান ছিল ১ হাজার ৯৩০ পয়েন্টে। দিন শেষে ডিএসইতে হাত বদল হয়েছে ৩১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৩০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ২ জানুয়ারি লেনদেন কমেছে ১৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বা ৫ শতাংশ।

২ জানুয়ারি ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৯৮টির বা ২৪ দশমিক ৬২ শতাংশের, কমেছে ২২৯টির বা ৫৭ দশমিক ৫৪ শতাংশের এবং দর অপরিবর্তন ছিল ৭১টির বা ১৭ দশমিক ৮৪ শতাংশের।

এ দিকে ২ জানুয়ারি অপর শেয়ার বাজার সিএসইতে হাত বদল হয়েছে ১০১ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার। ২ জানুয়ারি দিন শেষে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৭৮টির, কমেছে ৯৫টির এবং অপরিবর্তন রয়েছে ২২টির। ●

অকা/পুঁবা/ফর/সন্ধ্যা/৩ জানুয়ারি, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 1 year আগে

Leave A Reply

Exit mobile version