অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। এর আগে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ ও দেশ ত্যাগ করলে বন্ধ হয়ে যায় ভারত-বাংলাদেশ আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হওয়ায় পণ্যবাহী ট্রাক যাতায়াত শুরু হয়েছে বলে জানান বন্দর কর্মকর্তা।
বেনাপোল স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি শুরু হয়। এদিন প্রায় ৩০৪ ট্রাক পণ্য আমদানি ও ১৬৪ ট্রাক পণ্য রফতানি করা হয়েছে। আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে স্পঞ্জ আয়রন, কর্ন ডিডিজিএস, কাপড়, ব্লিচিং পাউডার, কোয়ার্টাইজ পাউডার, অ্যালামসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য। এছাড়া রফতানি পণ্যের মধ্যে আছে তৈরি পোশাক, পাটের সুতা, কাঁচা পাট, খালি সিলিন্ডার, জুতা, আরেকা বাদাম ও ভ্রমণ সামগ্রীর লাগেজ।
বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, সরকারের পদত্যাগের পর থেকে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকায় গত সোমবার দুপুরের পর থেকে ভারতের পেট্রাপোল থেকে পণ্যবোঝাই কোনো ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি কিংবা কোনো ট্রাক ভারতে যায়নি। শ্রমিকরা কাজ না করায় বন্দরে পণ্য খালাসও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বেনাপোল ও পেট্রাপোলে দেড় হাজারের বেশি পণ্যবোঝাই ট্রাকের জট বাধে। বুধবার দিনভর বেনাপোল বন্দর পরিচালক, কাস্টমস ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট নেতারা পেট্রাপোল কর্তৃপরে সঙ্গে আমদানি-রফতানি চালুতে অনুরোধ জানান। এরপর পেট্রাপোল কাস্টমস, বন্দর ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বুধবার বিকালে যৌথ আলোচনায় বাংলাদেশে পণ্যবাহী ট্রাক পাঠাতে সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুনরায় চালু হয় বন্দরের কার্যক্রম।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ‘পেট্রাপোল পোর্ট ম্যানেজারসহ সেখানকার বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে বাংলাদেশে নিরাপত্তাঝুঁকি নেই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। কোনো য়তি হবে না, এমন প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর তারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন এবং সকাল থেকে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। এদিন প্রায় ৩০৪ ট্রাক পণ্য আমদানি ও ১৬৪ ট্রাক পণ্য রফতানি করা হয়েছে।
বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই বন্দরে এক হাজারের বেশি ট্রাক পণ্য নিয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে। এর মধ্যে পেট্রাপোল বন্দরে ৭৫০টি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের অপোয় ও বেনাপোল বন্দরে ৩০০টির মতো ট্রাক ভারতে যাওয়ার অপোয় রয়েছে। আটকে থাকা পণ্যের মধ্যে বেশির ভাগ শিল্পের কাঁচামাল, রাসায়নিক, কাপড় ও যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ ট্রাক পণ্য আমদানি ও ২০০ থেকে ২৫০ ট্রাক পণ্য রফতানি হয়। ফলে আজই ট্রাকজট অনেকটা কেটে যাবে বলে জানায় বন্দর।
বেনাপোল কিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, ‘৭ আগস্ট পেট্রাপোলে এক হাজারের বেশি ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। এছাড়া পচনশীল পণ্যবোঝাই অনেক ট্রাক ভোমরা ও সোনামসজিদ বন্দরের দিকে গেছে। এ কারণে ওপারে ট্রাকের সংখ্যা কমে গেছে। এপারে ৩০০টির মতো ট্রাক রয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি আজ ভারতে প্রবেশ করবে।’
ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, ‘তিনদিন পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।
স্বাভাবিক সোনামসজিদ স্থলবন্দর: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য। এছাড়া ভারতের মেহেদীপুর বন্দর দিয়ে শুরু হয়েছে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিঙ্ক লিমিটেডের ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর পানামা পোর্টলিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা টিপু সুলতান বলেন, স্থলবন্দরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক। ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক পাঠালে আমরা নিতে প্রস্তুত। গতকাল ৬০টি পেঁয়াজবাহী ট্রাক ও ১৫টি অন্য পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছিল।
সোনামসজিদ স্থল শুল্ক বন্দর, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি ও রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ●
অকা/শিবা/ফর/সন্ধ্যা/৯ আগস্ট, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 years আগে

