মীর নাজিম উদ্দিন আহমেদ ●
বীমা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই শুনি ইমেজ সংকট, আস্থার অভাব, বাজার অস্থির, অনিয়ম ও দুর্নীতি শব্দগুচ্ছ। এসবের কারণে নাকি বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) সামাল দিতে পারছেন না। এ নিয়ে নানা মতামত। কেউ বলেন, যারা অন্যায় কাজগুলো করেন তারা সরকারের ভেতর আরেক সরকার। বেপরোয়া এদের রোখায় আইডিআরএ’র সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে অনেকে বলেন। তাহলে সংস্কার করে কি লাভ? বীমা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত আমাদের কী সুদিন ফিরবে না?
বীমা শিল্পের বড় গর্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এই শিল্পে কাজ করেছেন। সেই পেশাগত ধারাবাহিকতায় আমরা পহেলা মার্চ বীমা দিবস পেয়েছি কয়েক বছর আগে। এ সাফল্য কি তাহলে ম্লান হয়ে যাবে? স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু বীমা জাতীয়করণ করেছিলেন শিল্পে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে। কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়। মহান দেশনেতার অকাল প্রয়াণে তা ভেস্তে যায়।
স্বাধীন বাংলাদেশে অর্থনীতির আকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে একে একে বেসরকারি খাতে ৪৬টি নন-লাইফ ও ৩১টি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সংপৃক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু ব্যক্তি মালিকানায় বীমা ব্যবসাকে আমরা নিজস্ব পকেট বানিয়ে ফেলেছি। তা না হলে বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যবসা সফল এবং আর্থিক শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকা দুটি লাইফ বীমা কোম্পানীতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে কেন প্রশাসক নিয়োগ করতে হয়? যে বীমা কোম্পানীগুলোতে আমাদের বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মহোদয় এক সময় কাজ করেছিলেন,অথচ ওনাকেই সেখানে প্রশাসক নিয়োগ করতে হলো।
ঝড়ের পর মানুষ আবার পথ চলতে শুরু করে। বীমা শিল্পের সত্যিকার উন্নয়নের জন্য আমাদের লুটেরা মনোভাব পরিত্যাগ করতে হবে। তাই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে কাজ করা উচিত। বীমা উদ্যোক্তা ও মালিকদের কোম্পানীকে নিজের পকেট মনে না করে সরকার ও জনগণের পকেট মনে করতে হবে।
ইংরেজীতে ২৬টি অক্ষর রয়েছে। সেখান থেকে যে শব্দগুলো আমাদের সাফল্যের সঙ্গে যায়, তার মধ্যে কোন শব্দটি ১০০% শুদ্ধ, তা যাচাই করা প্রয়োজন। ‘এ’ থেকে শুরু করে ‘জেড’ অবধি মোট ২৬টি ইংরেজি বর্ণমালা রয়েছে। বর্ণমালার মধ্যেই নিহিত জ্ঞান, নেতৃত্ব, কঠোর পরিশ্রম, নির্ভুল ও দৃষ্টিভঙ্গী। ৫টি ধাপকে সংখ্যাতত্ত্বে বিশ্লেষণ করলে ফলাফল দাঁড়ায় জ্ঞান ৯৬ শতাংশ, নেতৃত্ব ৯৭ শতাংশ, কঠোর পরিশ্রম ৯৮ শতাংশ, নির্ভুল ৯৯ শতাংশ এবং দৃষ্টিভঙ্গী হচ্ছে শতভাগ।
আমাদের বীমা শিল্পের পুঁঞ্জিভত সমস্যার সমাধান সম্ভব একমাত্র দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তনের মাধ্যমে। এই দৃষ্টিভঙ্গী বদলানোর প্রথম দায়িত্ব মালিক পক্ষের, দ্বিতীয় কোম্পানীর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের এবং তাঁর অধীনস্থদের। আর বড় ভূমিকা পালন করতে পারে ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের কর্মকান্ডের সঙ্গে যারা ওৎপ্রোতভাবে জড়িত তারা।
আর্থিক অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গীই এ শিল্পে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
#
লেখক ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা
সর্বশেষ হালনাগাদ 5 years আগে

