তারেক আবেদীন

চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি জীবন বীমা কোম্পানী মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এ দীর্ঘ দিন ধরে চলতি দায়িত্বে থাকা মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মুহাম্মদ সাইদুল আমিনের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা সনদে বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে। সনদ দু’টি সম্প্রতি অর্থকাগজ পত্রিকার হাতে এসেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কথিত সনদপত্রে মুহাম্মদ সাইদুল আমিন একই সময়ে অর্থাৎ ১৯৯৪-৯৫ শিক্ষা বর্ষে রসায়ন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাশ করেছেন। দু’টি সনদেই ঘষা মাজা ও অস্পষ্টতা দেখা যায়। বিয়য়টি নিয়ে কথা বলার জন্য মুহাম্মদ সাইদুল আমিনের সেলফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি ফোনকল ধরেননি। কোন বার্তাও মুহাম্মদ সাইদুল আমিন পাঠাননি। পরে মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর চেয়ারম্যান সাজ্জাদ মোস্তফাকে ফোন করা হলে তিনি তাতে সাড়া দেননি।

উল্লেখ্য, দেশের বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ডে অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। নিকট অতীতে একাধিক বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার জাল, ভূয়া শিক্ষা সনদ এবং বয়স ও সময়কাল সংক্রান্ত অনিয়ম ধরা পড়ে। বীমা দাবী নিয়মিত পরিশোধ না করা, নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নিদের্শ অমান্য এবং ৬ মাসের বেশি সময় ধরে চলতি দায়িত্বে থাকা কর্মরত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের যোগ্যতা যাচাই বাছাইয়ের জন্য সম্প্রতি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) বেশ নড়ে চড়ে বসেছে। তারই ধারাবাহিকতায় ক’দিন আগে জাল শিক্ষা সনদ প্রমাণিত হওয়ায় মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে একজন বীমা কর্মকর্তার নিয়োগ অনুমোদন বাতিল করে দেয় আইডিআরএ ।

মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইদুল আমিনের প্রসঙ্গটি তুলে ধরা হলে লাইফ নিয়ে কাজ করা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অর্থকাগজকে জানান, বিষয়টি আমাদের নজরেও এসেছে। মুহাম্মদ সাইদুল আমিনের শিক্ষা সনদ যাচাইয়ে কাজ চলছে।

এদিকে মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর ওয়েবপেজের কর্পোরেট ম্যানেজমেন্ট ঘরে সিইও(সিসি) মুহাম্মদ সাইদুল আমিনের বৃত্তান্তে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অন্য তথ্য দেখা যায়। তাতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার (মুহাম্মদ সাইদুল আমিন) এমবিএস ডিগ্রির তথ্য সন্নিবেশিত রয়েছে। কিন্তু কোন সময় এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোন বিষয়ে তিনি শিক্ষা লাভ করেছেন তার উল্লেখ নেই।

দু’টি ঘষা মাজা সনদের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট পদস্থ একজন কর্মকর্তার সঙ্গে। ওই কর্মকর্তা অর্থকাগজকে জানান, একই শিক্ষা বছরে ২ টি সনদ কোন প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া হয় না। ১৯৯৪-৯৫ শিক্ষা বর্ষে যে কোন বিষয়ে সম্মানে স্নাতক ৩ বছরের এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সময়কাল ১ বছর। তাই ২ পর্বে ৪ বছরের শিক্ষা ১ বছরে অসম্ভব, তা অনিয়মও বটে। কেউ শিক্ষা সনদ যাচাই করতে চাইলে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে তা জানতে হয়।

অকা/বীখা/ সকাল, ৩০ মে, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 3 years আগে

Leave A Reply

Exit mobile version