অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত ১৬৭টি কোম্পানির সর্বশেষ ছয় মাসের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মাত্র ৬৮টি কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে, যা মোট তালিকাভুক্ত কোম্পানির ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে ৯৮টি কোম্পানির মুনাফায় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি কোম্পানি সরাসরি লোকসানে চলে গেছে এবং ৩৭টি কোম্পানির লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়েছে।
অর্থনীতি এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ, যার প্রভাব পড়ছে পুঁজি বাজারে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে, সুদের হার বেশি হওয়ায় ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীল কোম্পানিগুলো বিপাকে পড়েছে, আর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়ায় বাজারের দুরবস্থা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এসব কারণে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ কোম্পানির মুনাফা কমেছে, অনেকেই লাভ থেকে লোকসানে চলে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুদের উচ্চ হার, মূল্যস্ফীতি এবং বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী বলেন, ‘সব খাতই খারাপ করছে, বিশেষ করে স্টিল ও সিমেন্ট খাতের অবস্থা আরও নাজুক।’ তবে তিনি মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকলে এবং আস্থা ফিরলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
যদিও ৬৮টি কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে, তবে প্রবৃদ্ধির হার খুব বেশি নয়। মাত্র দুটি কোম্পানির মুনাফা ১০০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে, একটি কোম্পানি ৫০০ শতাংশের বেশি লাভ করেছে, আর ৩০০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৫টি কোম্পানির। শীর্ষে রয়েছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, যার মুনাফা ১৩৬৭ শতাংশ বেড়েছে, এরপর জেএমআই সিরিঞ্জ ১০৪০ শতাংশ, ইফাদ অটোজ ৭৩৩ শতাংশ, ওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোড ৪০০ শতাংশ এবং মতিন স্পিনিং ও ডমিনেজ স্টিল ৩৫০ শতাংশ মুনাফা করেছে।
অন্যদিকে ৪৬টি কোম্পানির মুনাফা কমলেও তারা এখনো লোকসানে যায়নি। তবে ১৫টি কোম্পানি, যেমন ওরিয়ন ফার্মা, বারাকা পতেঙ্গা, মেঘনা সিমেন্ট, বসুন্ধরা পেপার ও দেশবন্ধু পলিমার, আগের ছয় মাসে লাভে থাকলেও এবার লোকসানে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি লোকসানে পড়েছে আনলিমা ইয়ার্ন, যার লোকসান ১৯৫০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া সিলভা ফার্মা ২৫৮ শতাংশ, পেনিনসুলা ২৫৫ শতাংশ, ঢাকা ডাইং ২৩২ শতাংশ এবং বিবিএস কেব্লস ২২৩ শতাংশ লোকসান করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকঋণের ওপর অধিক নির্ভরশীল কোম্পানিগুলো সুদের উচ্চ হারের কারণে সংকটে পড়েছে। র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক মনে করেন, পুঁজি বাজার কাঠামোগত দুর্বলতায় ভুগছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল হলে, সুদের হার ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এলে এবং বাজার কাঠামোর উন্নয়ন করা হলে পুঁজি বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও কার্যকর নীতিগত সহায়তা।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, কোম্পানিগুলোর মুনাফা তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। তবে সুদের হার ও মূল্যস্ফীতি কমলে সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। ●
অকা/পুবা/ফর/সন্ধ্যা/১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 1 year আগে
