বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ি, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক হিসাবের তুলনায় এমএফএস বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবধারীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় দ্বিগুণ।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সহজেই বিভিন্ন বিল পরিশোধ ও লেনদেনের সুবিধার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে এমএফএসই এখন আর্থিক লেনদেনের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, গত ফেব্রুয়ারিতে দেশে এমএফএস সেবার মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। দেশে বিকাশ, নগদ, উপায়সহ বেশ কিছু মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গ্রাহক নিজের মুঠোফোন ব্যবহার করে অথবা এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর নিযুক্ত এজেন্ট পয়েন্ট থেকে লেনদেন করতে পারেন। পাশাপাশি বর্তমানে সঞ্চয় ও ঋণের মতো সুবিধাও দিচ্ছে কিছু এমএফএস প্রতিষ্ঠান। এসব কারণে এ সেবা দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।
বিবিএসের প্রকাশিত বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২৩ প্রতিবেদনে নাগরিকদের আর্থিক সেবার অভিগম্যতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের (১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী) মধ্যে ২৮ শতাংশ মানুষের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব রয়েছে। বিপরীতে প্রায় ৪৮ শতাংশ মানুষের এমএফএস সেবায় হিসাব রয়েছে।
দেশের মানুষের আর্থিক সেবার অভিগম্যতা প্রতিবছর বাড়ছে। তবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে মোবাইলে আর্থিক সেবায় অভিগম্যতা বেশি। যেমন ২০২১ সালে দেশের ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব ছিল, যা গত বছর বেড়ে ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে ২০২১ সালে এমএফএসে হিসাবধারী ছিল ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা গত বছর বেড়ে ৪৭ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৭ কোটি ১০ লাখ। আর দেশে এমএফএস গ্রাহকের সংখ্যা এখন ২২ কোটির বেশি। একজন গ্রাহক একাধিক এমএফএস সেবায় হিসাব খুলতে পারেন। খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে ঠিক কত নাগরিক এমএফএসের আওতায় এসেছেন, তা বলা যাচ্ছে না। তবে প্রতিটি পরিবারেই সেবাটি পৌঁছে গেছে বলা যায়। গত পাঁচ বছরে দেশে এমএফএস গ্রাহকের সংখ্যা তিন গুণের বেশি বেড়েছে।

২০১৮ সালে এমএফএস গ্রাহক ছিল প্রায় পৌনে ৭ কোটি, যা গত বছর ২২ কোটি ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুসারে, ফেব্রুয়ারি শেষে দেশে এমএফএস গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ২২ কোটি ১৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৫ জন। শুধু গত এক বছরেই প্রায় আড়াই কোটি এমএফএস গ্রাহক বেড়েছে।

গ্রাহক বৃদ্ধির পাশাপাশি মোবাইলে আর্থিক সেবার মাধ্যমে লেনদেনও বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এমএফএসে লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছরে এমএফএসে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৩০৪ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে ব্যক্তিপর্যায়ের লেনদেন। এরপরে এগিয়ে রয়েছে বিভিন্ন মার্চেন্ট পেমেন্ট, বেতন পরিশোধ, পরিষেবা বিল, সরকারি ভাতা, টকটাইম ও প্রবাসীয় আয়সংক্রান্ত লেনদেন।

বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোবাইলে আর্থিক হিসাবধারীদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীরা পিছিয়ে রয়েছেন। বিবিএসের তথ্য বলছে, এমএফএস গ্রাহকের মধ্যে ৬১ শতাংশ পুরুষ ও ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ নারী। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যেও দেখা যায়, দেশে মোবাইলে আর্থিক হিসাবধারী পুরুষের সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি, যেখানে নারীর সংখ্যা ৯ কোটির কিছু বেশি। অন্যদিকে এমএফএস গ্রাহকের মধ্যে সাড়ে ১২ কোটির অবস্থান গ্রামে। শহর এলাকায় এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৯ কোটি।

সর্বশেষ হালনাগাদ 2 years আগে

Leave A Reply

Exit mobile version