অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
সূচকের উন্নতিতে টানা দ্বিতীয় দিন পার করেছে দেশের পুঁজি বাজার। কিন্তু এতেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরছে না। ১ জুন ঢাকা শেয়ার বাজারের লেনদেন চিত্র তাইই প্রমাণ করে। ১ জুন নিয়ে দু’দিনে বাজারটির সূচকের উন্নতি ঘটে ৫২ পয়েন্টের বেশি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ১ জুন আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে বাজারটিতে। পুঁজি বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন সূচকের উন্নতি ঘটলেও এত তাড়াতাড়ি আস্থায় ফিরছে না পুঁজি বাজার। দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা মন্দার প্রভাব কাটিয়ে বাজার আস্থায় ফিরতে আরো সময় লাগতে পারে।

১ জুন নিয়ে টানা দ্বিতীয় দুই কার্যদিবসে সূচকের উন্নতি ঘটেছে দেশের উভয় পুঁজি বাজারে। প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ১ জুন ৩০ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বেড়েছে। চার হাজার ৬৩৭ দশমিক ৯২ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি দিনশেষে চার হাজার ৬৬৮ দশমিক ৪০ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইর অন্য দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহর উন্নতি হয়েছে যথাক্রমে ১৭ দশমিক ৯৫ ও ৬ দশমিক ৪২ পয়েন্ট।

দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক এদিন ৬৪ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। একই সময় সিএসইর অন্য দুই সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ১৫২ দশমিক ৪৯ ও ৪৯ দশমিক ৬২ পয়েন্ট। এর আগে টানা ছয় দিন পতনের পর গত সপ্তাহের শেষদিন ২৯ মে দেশের দুই পুঁজি বাজার সূচকের উন্নতি ঘটে।

১ জুন সূচকের উন্নতির পেছনে কয়েকটি ব্যাংকের মূল্যবৃদ্ধি বড় ভূমিকা রাখে। দিনের বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায় ১ জুন ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় কমপক্ষে পাঁচটি ছিল ব্যাংকিং খাতের কোম্পানি। সাধারণত বড় মূলধনী কোম্পানি হওয়ার কারণে এ খাতের কোম্পানিগুলোর মূল্যবৃদ্ধি বাজার সূচকের উন্নতিতে বরাবরই বড় অবদান রাখে।

এদিকে পুঁজি বাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) রাইট শেয়ার ইস্যু ও স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টরের কাছে শেয়ার বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ল্য ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন বাড়ানো।

২৯ মে অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই বৈঠকে সর্বশেষ হিসাব বছরের নিরীতি ও প্রথম প্রান্তিকের অনিরীতি আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদন করা হয়। ১ জুন ডিএসইর ওয়েবসাইটে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সূত্রানুসারে, ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদ ২:১ হিসেবে রাইট শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ বিদ্যমান দু’টি শেয়ারের বিপরীতে এক রাইট শেয়ার ইস্যু করা হবে। অভিহিত মূল্য ১০ টাকা দরেই এ শেয়ার ইস্যু করা হবে। একই বৈঠকে পর্ষদ ব্যাংকটির জন্য একটি উপযুক্ত স্ট্র্যাটেজিক ইনভেস্টর কাছে বর্তমান পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশ পরিমাণ নতুন শেয়ার বিক্রি করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠানের সাথে দরকষাকষির মাধ্যমে ওই শেয়ারের দাম নির্ধারণ করা হবে। বিষয়গুলো চূড়ান্ত হলে তা প্রকাশ করবে ব্যাংকটি।

রাইট শেয়ার ইস্যু ও স্ট্র্যাটেজিক বিনিয়োগকারীর বিপরীতে নতুন শেয়ার ইস্যু করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমতির প্রয়োজন হবে।

ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদের এই দুই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন বেড়ে দ্বিগুণ দাঁড়াবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, ইউসিবির পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। নতুন শেয়ার ইস্যুর পর তা বেড়ে তিন হাজার ১০০ কোটি টাকা হবে। এ ছাড়া বোর্ড সভায় কোম্পানিটি অপরিশোধিত মূলধন দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকায় বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ঢাকা শেয়ার বাজারে ১ জুন লেনদেনের শীর্ষে ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। এ দিন ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ১১ লাখ ৮২ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। আট কোটি ২০ লাখ টাকায় ২০ লাখ এক হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে কেডিএস অ্যাক্সেসরিজ ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনে শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল যথাক্রমে লাভেলো আইসক্রিম, ওরিয়ন ইনফিউশন, ব্র্যাক ব্যাংক, শাশা ডেনিমস, মিডল্যান্ড ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, শাইনপুকুর সিরামিকস ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

এ সময় ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ কোম্পানি ছিল বস্ত্র খাতের কোম্পানি দেশ গার্মেন্টস। কোম্পানিটির মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধিতে দিনের দ্বিতীয় মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানি ছিল একই খাতের শাশা ডেনিমস। ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, আরগন ডেনিমস, সাউথবাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এম হোসাইন স্পিনিং মিলস, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও কেডিএস অ্যাক্সেসরিস।

১ জুন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৪০২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দরপতনের শিকার ছিল ১১৩টি। দিনের সর্বোচ্চ দরপতনের শিকার ছিল সাধারণ বীমা কোম্পানি রুপালি ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির দরপতনের হার ছিল ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। দরপতনের তালিকায় দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ দর হারায় এটি। এ ছাড়া দরপতনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে শ্যামপুর সুগার মিলস, ডেফোডিল কম্পিউটার, সাউথইস্ট ব্যাংক, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এস আলম কোল্ড রোল স্টিলস, হাইডেলবার্গ মেটেরিয়ালস ও উত্তরা ফিন্যান্স। ●

অকা/পুঁবা/ফর/রাত/১ জুন, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 9 months আগে

Leave A Reply

Exit mobile version