অর্থকাগজ ডেস্ক>

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদন সচল রাখা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও সারবাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে প্রায় ১১০ কোটি মার্কিন ডলারের (১ দশমিক ১ বিলিয়ন) জরুরি সহায়তা অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। দুইটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, অনুমোদিত অর্থের মধ্যে ৩০ কোটি ডলার ব্যয় হবে জরুরি খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পে। এই অর্থ দিয়ে আগামী আমন ও বোরো মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানিতে সহায়তা করা হবে। দেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর হওয়ায় এ অর্থায়নের মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ টন সার আমদানির সুযোগ তৈরি হবে, যা প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদনে সহায়ক হবে।

অন্যদিকে কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্টের আওতায় ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই তহবিল থেকে সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ, পানি, তেল ও গ্যাস সরবরাহের মতো জরুরি সেবা সচল রাখতেও এ অর্থ ব্যবহার করা হবে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সার, জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে। এই সহায়তা কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার সুলেমান কৌলিবালি বলেন, বাংলাদেশের ধান উৎপাদনের বড় অংশই আমন ও বোরো মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। তাই সারের সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটলে খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থ দ্রুত ছাড় করা হবে, যাতে চলমান সংকটের প্রভাব কমিয়ে অর্থনীতি ও জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।

সর্বশেষ হালনাগাদ 13 hours আগে

Leave A Reply

Exit mobile version