অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর সদ্য অপসারিত চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশে গতকাল (৪ অক্টোবর) কর্তৃপক্ষ গঠিত কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ)। চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একটি সূত্র জানায়, দেশে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের একটি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড। বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে দুর্নীতি ও অনিয়মের খবর প্রকাশ হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে বিষয়টি অনেক আগেই নজরে আসে। অপসারিত চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুদুক উত্থাপিত দুর্নীতি, কোম্পানিটির বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ এবং মিডিয়ায় নেতিবাচক প্রতিবেদন এসব বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন আইডিআরএ’র পরিচালক (উপ সচিব)- লাইফ- মো. শাহ্ আলম, পরিচালক (উপ সচিব)- আইন- মোহাম্মদ শফিউদ্দীন, কর্মকর্তা মো. আবু মাহমুদ ও কনিষ্ঠ কর্মকর্তা মুহাম্মদ শামসুল আলম।
জানা গেছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তদন্তের ব্যাপারে একটি গাইড লাইন দিয়েছে আইডিআরএকে। সে রূপরেখা অনুযায়ি তদন্তে যেসব বিষয় কমিটি খতিয়ে দেখবেন তা হলো- ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড থেকে মানি লন্ডারিং ও প্রশাসনে দুর্নীতি হয়েছে কিনা, সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভূমি ক্রয় বিক্রয়ে প্রতারণামূলকভাবে বিনিয়োগ হয়েছে কিনা এবং ব্যাংকের স্থায়ী আমানত থেকে অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে কিনা ইত্যাদি বিষয় চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা। আর বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) থেকে ৫৩.০৩.০০০০.০৭১.২৭.০০৩.২০.৫৬ নম্বর অফিস আদেশে সংশ্লিষ্টদের দেয়া চিঠিতে এ সুপারিশ করেন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (আইন) এস. এম. শাকিল আখতার।
উল্লেখ্য, বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডকে নিয়ে দেশের বীমা খাতে আলোচনা ও সমালোচনা এখন তুঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রায় প্রতিদিনই প্রতিষ্ঠানটির বিরদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রকাশ পাচ্ছে। অভিযোগের তীর খোদ বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধেও।
প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন বড় পদে কাজ করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠানের একজন বড় কর্মকর্তার কাছে তদন্ত কমিটি গঠনের অফিস আদেশের বিস্তারিত জানিয়ে তার মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি অর্থকাগজকে জানান, বিষয়টি হাস্যকরও বটে। তিনি বলেন, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে অনিয়ম অনেক দিনের। অপসারিত চেয়ারমান মো. নজরুল ইসলাম বহু বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান। তার অধীনে বড় পদে চাকরি করেছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান। তিনি হিসাববিদ। সে বিবেচনায় তিনি তখন কোম্পানিটিতে নিরীক্ষা কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তাই ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্সের বিষয়ে তিনি দায় এড়াতে পারেন না। আপনাদের মুখে শুনলাম তদন্ত প্রতিবেদন তার কাছে জমা দিবে কমিটি। বিষয়টি সত্যিই হাস্যকর! ফলে প্রতিবেদন নিরপেক্ষভাবে তৈরি হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েই যাচ্ছে। কেননা, কমিটির সদস্যরা তার অধীনেই কাজ করছেন।
এদিকে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ হেমায়েত উল্লাহকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর অপসারণ করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। আইডিআরএ ফারইস্ট লাইফের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রহমতউল্লাহকে চিঠি দিয়ে এ অপসারণের কথা জানায়। হেমায়েত উল্লাহকেও চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ থেকে আর ফারইস্ট লাইফের সিইও থাকছেন না তিনি। তবে এই অপসারণ আর্থিক অনিয়মের দায় থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেবে না। তাঁর দায়িত্ব পালনকালীন সংঘটিত কোনো ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে উদ্ঘাটিত হলে, সে দায়ও তার ওপর বর্তাবে।
সিইওর অব্যবহিত নিচের পদের কেউ ফারইস্ট লাইফে সিইওর দায়িত্ব পালন করবেন। আর তিন মাসের মধ্যে কোম্পানিটির নিয়মিত সিইও নিয়োগ দেবে পরিচালনা পর্ষদ।
অন্যদিকে, গত ১ সেপ্টেম্বর ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দিয়ে নতুন ১০ জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে পুঁজি বাজার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সিকিউরিটজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসি সেদিন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, বিনিয়োগকারী, বীমা গ্রাহক ও সার্বিক পুঁজিবাজার রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফারইস্ট লাইফ সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানিটির সদ্য অপসারিত চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামের দুর্নীতির অন্যতম সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয় হেমায়েত উল্লাহকে। নজরুল ইসলাম অল্প সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আর দেশে ফিরছেন না।
#
সর্বশেষ হালনাগাদ 5 years আগে
