অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
পুঁজি বাজারে ফের সংশোধনের ঘটনা ঘটেছে। ৪ আগস্ট দেশের দুই পুঁজি বাজারেই সূচকের অবনতি হয়েছে। এ সময় বাজারগুলোতে কমেছে লেনদেনও। এর আগে দু’দিন বড় ধরনের উন্নতি ঘটে দেশের দুই পুঁজি বাজারের সূচক ও লেনদেনে। এ সময় চলতি বছরের সর্বোচ্চ লেনদেন নিষ্পত্তি করে দেশের প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। একই সময় বাজারটির সূচকও পৌঁছে যায় চলতি বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে। লেনদেন ও সূচকের এ উন্নতির পর গতকাল যথারীতি সংশোধন ঘটলো দুই পুঁজি বাজারেই। এ সময় উভয় বাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ৫০ শতাংশের বেশি দরপতনের শিকার হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ আগস্ট ৫০ দশমিক ২৩ পয়েন্ট কমেছে। ৫ হাজার ৫৩৬ দশমিক ১৪ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি ৪ আগস্ট দিনশেষে নেমে আসে ৫ হাজার ৪৮৫ দশমিক ৯০ পয়েন্টে। এ সময় ডিএসইর অন্য দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ২০ দশমিক ৫৩ ও ৮ দশমিক ০৬ পয়েন্ট। একই সময় দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৬৮ দশমিক ১৬ পয়েন্ট হারায়। বাজারটির অপর দুই সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৪৫ দশমিক ৪৮ ও ৪২ দশমিক ০৪ পয়েন্ট।
সূচকের এ অবনতি যথারীতি প্রভাবিত করে লেনদেনকেও। ডিএসইতে ৪ আগস্ট মোট ৯১১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ২২৬ কোটি টাকা কম। ৩ আগস্ট ডিএসইর লেনদেন ছিল ১ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা। এ সময় চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে লেনদেন ২০ কোটি টাকা থেকে ১০ কোটিতে নেমে আসে।
৪ আগস্ট লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে উভয় বাজার। ঢাকায় ডিএসইএক্স সূচক বেলা সোয়া ১১টার দিকে ১৫ পয়েন্টের বেশি হারায়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে সূচকটি। সাড়ে ১১টার দিকে সূচক পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৫৬০ পয়েন্টে। কিন্তু এর পর পরই নতুন করে বিক্রয়চাপ তৈরি হতে থাকে। দিনের বাকি সময় এ চাপ আর সামাল দিতে পারেনি বাজারটি। এ সময় ব্যাংকসহ বিভিন্ন খাতের বেশির ভাগ কোম্পানি দর হারাতে থাকলে বাড়তে থাকে সূচকের অবনতি। তবে একই সময় স্বল্প মূল্যস্তরে থাকা কিছু নতুন কোম্পানি মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় উঠে আসে। কিন্তু ব্যাংকিং খাতের দরপতন সূচককে আর ঊর্ধŸমুখী হতে দেয়নি। এ খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ৫৭টিই দরপতনের শিকার ছিল। একই ভাবে বড় বড় মূলধনী টেলিকমিউনিকেশন খাতের প্রধান দু’টি কোম্পানি গ্রামীণফোন ও রবি অজিয়াটা দর হারায়।
পুঁজি বাজার সংশ্লিষ্টরা দিনের বাজার আচরণকে স্বাভাবিক সংশোধন হিসাবেই দেখছেন। তাদের মতে, দু’দিন বাজারে বেশ কিছু কোম্পানির মূল্যস্তর বেড়েছে। তাই এগুলো থেকে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। এ সংশোধনকে সাময়িক বলেই ধরে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরাও। তাদের মতে, বাজারে যথাসময়ে সংশোধন ঘটলে ঝুঁকিমুক্ত থাকে। তা ছাড়া গত কয়েক দিন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূল্যবৃদ্ধি বাজারকে অনেকটা একপেশে করে ফেলেছিল। এখন এসব খাতে সংশোধন ঘটলে অন্য খাতগুলোতে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে। তাতে বাজারে ভারসাম্য যেমন আসবে তেমনি বাজার টেকসই হতে সহায়ক হবে।
এ দিকে ৫ আগস্ট সরকারি ছুটি উপলক্ষে দেশের পুঁজি বাজার বন্ধ থাকবে। ৪ আগস্ট ডিএসইর একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সাধারণত ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকলে পুঁজি বাজারও বন্ধ থাকে। আজ সরকারি ছুটি উপলক্ষে ব্যাংকগুলো বন্ধ থাকবে বিধায় পুঁজি বাজারগুলোও বন্ধ থাকছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ৪ আগস্ট লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে ব্যাংকিং খাতের কোম্পানি যমুনা ব্যাংক। এ দিন ৩১ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ১ কোটি ৪৬ লাখ ১৬ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। ৩১ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ২৬ লাখ ২৬ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে লেনদেনের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ২৯ কোটি ৭৭ লাখ ২২ হাজার টাকার লেনদেন করে তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিটি ব্যাংক। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হচ্ছে যথাক্রমে- ওরিয়ন ইনফিউশন, উত্তরা ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, মালেক স্পিনিং এবং ট্রাস্ট ব্যাংক।
৪ আগস্ট ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে রাষ্ট্রায়ত্ত জ¦ালানি খাতের কোম্পানি তিতাস গ্যাস। ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ দাম বেড়ে এ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে বেক্সিমকো গ্রুপের শাইন পুকুর সিরামিকস। এ ছাড়া, ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিডি থাই ফুডের ৬.৯৪ শতাংশ, সমতা লেদারের ৬.৫৫ শতাংশ, প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের ৫.৯৮ শতাংশ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ৫.৯৪ শতাংশ, আইসিবি অগ্রণী ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ডের ৫.৪৮ শতাংশ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলসের ৫.১৫ শতাংশ এবং ইনডেক্স এগ্রোর ৪.৮০ শতাংশ দর বেড়েছে।
৪ আগস্ট ডিএসইর দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ট্রাস্ট ব্যাংক। বোনাস লভ্যাংশের রেকর্ড পরবর্তী মূল্যসমন্বয়ে ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। ৫.৮৮ শতাংশ দরপতনের শিকার বস্ত্র খাতের সিঅ্যান্ড এ টেক্সটাইল ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর দরপতনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে এসবিএসি ব্যাংক, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ও মেট্রো স্পিনিং। ●
অকা/পুঁবা/ফর/সন্ধ্যা/৫ আগস্ট, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 7 months আগে

