অর্থকাগজ ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর প্রায় ২ মাস হতে চললো। যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে জটিলতার কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে তেলের উৎপাদনও কমে গেছে। যে পরিমাণ তেল কম উৎপাদিত হয়েছে, তার আর্থিক মূল্য বিপুল।
রয়টার্স বলছে, এই সময় যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কম উৎপাদিত হয়েছে, তার মূল্য পাঁচ হাজার কোটি ডলার। স্বাভাবিকভাবেই আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর প্রভাব আগামী কয়েক মাস বা এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত অনুভূত হবে।
শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইসরায়েল–লেবাননের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ‘শিগগিরই’ চুক্তি হতে পারে, যদিও সময়সীমা এখনো অনিশ্চিত।
তথ্য ও বিশ্লেষণভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংকট শুরুর পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট সরাবরাহ কম হয়েছে ৫০ কোটি ব্যারেলের বেশি। এই বাস্তবতায় বলা হচ্ছে, আধুনিক ইতিহাসে জ্বালানিবাজারে এত বড় বিঘ্ন আর কখনো ঘটেনি।
রয়টার্স আরও বলছে, এই তেল যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক মাস আর পুরো ইউরোপের এক মাসের বেশি সময়ের চাহিদার সমপরিমাণ। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রায় ছয় বছরের জ্বালানি ব্যবহারের সমপরিমাণ (২০২১ অর্থবছরে বছরে প্রায় আট কোটি ব্যারেল ব্যবহারের ভিত্তিতে)। এ ছাড়া এই পরিমাণ তেল দিয়ে প্রায় চার মাস আন্তর্জাতিক পরিসরে জাহাজ চলতে পারত।
বাস্তবতা হলো, মার্চ মাসে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর অপরিশোধিত তেল উৎপাদন দৈনিক প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল কমেছে। পরিমাণগত দিক থেকে যা বিশ্বের অন্যতম বড় দুই তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল ও শেভরনের সম্মিলিত উৎপাদনের কাছাকাছি।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানের জেট জ্বালানি রপ্তানি হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ব্যারেল। কিন্তু মার্চ ও এপ্রিলের এখন পর্যন্ত মিলিয়ে তা মাত্র ৪১ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকলেও উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসেই বৈশ্বিক স্থলভিত্তিক অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল কমেছে। মার্চের শেষ দিক থেকে উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায় এই মজুতের পরিমাণ দৈনিক প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।
বাস্তবতা হলো, কুয়েত ও ইরাকের যেসব তেলক্ষেত্রে ভারী তেল উৎপাদিত হয়, সেই তেলক্ষেত্রগুলো স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে চার থেকে পাঁচ মাস সময় নিতে পারে। আর এই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো পুরোপুরি পুনরুদ্ধারে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 hours আগে

