বিশেষ প্রতিনিধি>
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন ঋণচুক্তি সই হতে পারে। এরপর ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কিস্তির অর্থ ছাড় পাওয়ার আশা করছে অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকরা।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নতুন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা চাওয়া হচ্ছে। চলমান কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন একটি মধ্যমেয়াদি ঋণ কাঠামোতে যেতে চায় সরকার, যাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, অর্থনৈতিক সংস্কার অব্যাহত রাখা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে অর্থায়নের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা যায়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ইতোমধ্যে আইএমএফের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠক, নীতিগত সমঝোতা এবং সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনার ভিত্তিতে ঋণ কর্মসূচির চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।
তবে নতুন ঋণচুক্তির ক্ষেত্রে আগের মতোই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে আইএমএফ। এর মধ্যে রয়েছে কর আহরণ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করা, খেলাপি ঋণ কমানো, বিনিময় হারকে আরও বাজারভিত্তিক করা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন ঋণ কর্মসূচি শুধু বৈদেশিক অর্থায়নের উৎস বাড়াবে না, বরং বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকেও অর্থায়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দেবে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতেও এটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং রাজস্ব আহরণে চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আইএমএফের নতুন কর্মসূচিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 hours আগে

