মারুফা ইয়াসমিন ●
গভীরতর জালে আটকে পড়া আমাদের অর্থনীতির জন্য কেবল বর্তমান সংকট সামলানোই যথেষ্ট নয়, বরং ভবিষ্যতের ঝাপটা সামলানোর সক্ষমতা তৈরি করাও জরুরি। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চিতির লেখচিত্রের নিম্নমুখী অবস্থান দেখে উদ্বেগ যেনো আরও বেড়ে যায়! ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের ডলারের মজুদ ধরে রাখা এখন আর কেবল বিলাসিতা নয়, বরং অস্তিত্বের প্রশ্ন।! আইএমএফের (IMF) মানদণ্ড অনুযায়ী একটি দেশের অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং আমদানিতে এলসি (LC) খোলার চাপের কারণে আমাদের সেই সুরক্ষা বলয় ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে। এই সংকট থেকে বাঁচতে আমাদের বিলাসজাত পণ্য আমদানিতে যে শতভাগ মার্জিন আরোপ করা হয়েছে, তা শুধু কাগজ-কলমে রাখলে চলবে না, বরং এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, যার একটি বড় অংশ খরচ হয় পরিবহন ও সেচ কাজে। তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০ ডলার বাড়লে আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে যে অতিরিক্ত কয়েক হাজার কোটি টাকার চাপ তৈরি হয়, তা সামাল দেওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা আমাদের বাজেট কাঠামোতে খুব একটা নেই। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ফার্নেস অয়েলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা আমাদের উৎপাদন খরচকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই মুহূর্তে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ওপর দায়মুক্তি কমিয়ে সাশ্রয়ী কয়লা ভিত্তিক বা গ্যাস ভিত্তিক বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। নতুবা ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।
এদিকে, কৃষি খাতের দিকে তাকালে এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। বোরো ও আমন মৌসুমে সেচ কাজে আমাদের প্রায় ১৪-১৫ লক্ষ ডিজেলচালিত পাম্প ব্যবহৃত হয়। তেলের দাম ১০ শতাংশ বাড়লে ধান উৎপাদন খরচ বিঘাপ্রতি প্রায় ৭-৮ শতাংশ বেড়ে যায়। ফলশ্রুতিতে বাজারে চালের দাম যখন কেজিতে ৫-১০ টাকা বাড়ে, তখন সাধারণ মানুষের প্রোটিন বা পুষ্টির চাহিদা মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সরকারের উচিত অবিলম্বে দেশের কৃষি অঞ্চলে ‘সোলার ইরিগেশন’ বা সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার জন্য একটি মহাপরিকল্পনা নেওয়া। যদি আমরা অন্তত ৩০ শতাংশ সেচ পাম্পকে সৌরশক্তিতে রূপান্তর করতে পারি, তবে প্রতি বছর কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের ডিজেল আমদানি সাশ্রয় করা সম্ভব হবে, যা আমাদের রিজার্ভের ওপর চাপ অনেকটা কমিয়ে দেবে। অন্যদিকে, রফতানি খাতের প্রাণভোমরা তৈরি পোশাক শিল্পের পরিস্থিতিও সুখকর নয়। ২০২৬ সালে এসে আমরা দেখছি প্রতিযোগী দেশগুলো যেমন ভিয়েতনাম বা ভারত তাদের লজিস্টিক খরচ কমাতে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করছে। অথচ আমাদের দেশে বন্দরে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা এবং জ্বালানি সংকটে ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় ‘লিড টাইম’ বেড়ে যাচ্ছে। পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, জ্বালানি ও গ্যাস সংকটে টেক্সটাইল মিলগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে বিদেশি ক্রেতারা অন্য দেশের দিকে ঝুঁকছে। আমাদের উচিত হবে শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ‘ডেডিকেটেড লাইন’ প্রবর্তন করা, যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয় এবং বিশ্ব বাজারে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় থাকে।
রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়লে সেখানে কর্মরত প্রায় ৮০-৯০ লাখ বাংলাদেশির কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কেবল সৌদি আরব বা আমিরাতের ওপর নির্ভর না করে আমাদের উচিত হবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে দক্ষ জনশক্তি রফতানি বাড়ানো। দক্ষ শ্রমিকের পাঠানো রেমিট্যান্স অদক্ষ শ্রমিকের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি হতে পারে। এছাড়া বৈধ পথে রেমিট্যান্স উৎসাহিত করতে বর্তমান ২.৫ শতাংশ প্রণোদনাকে সাময়িকভাবে ৫ শতাংশে উন্নীত করার যে প্রস্তাব আমি দিয়েছি, তা বাস্তবায়ন করলে হুন্ডি ব্যবসা অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের প্রবাহ বাড়বে। বাজার ব্যবস্থাপনায় আমাদের দীর্ঘদিনের যে ত্রুটি, তা ২০২৬ সালের এই সংকটে আরও প্রকট হয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, অনেক সময় কোল্ড স্টোরেজ বা আড়তগুলোতে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়। প্রতিটি কোল্ড স্টোরেজে ‘ডিজিটাল ইনভেন্টরি’ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা উচিত, যেখানে জাতীয় ডাটাবেজে প্রতিদিনের মজুদের তথ্য থাকবে। এতে করে সরবরাহ শৃঙ্খলায় কেউ কৃত্রিম বাধা তৈরি করতে চাইলে তা সহজেই শনাক্ত করা যাবে। সাধারণ মানুষের মনে যে অবিশ্বাসের দেয়াল তৈরি হয়েছে, তা ভাঙতে হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং দৃশ্যমান শাস্তির কোনো বিকল্প নেই। পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আমাদের আরও আধুনিক হতে হবে। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাস ও ট্রাক মালিকরা যে হারে ভাড়া বাড়ান, তার প্রভাব পড়ে সরাসরি নিত্যপণ্যের দামের ওপর। বড় শহরগুলোতে গণপরিবহন ব্যবস্থায় ই-টিকিটিং এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস সার্ভিস চালু করা জরুরি। এতে জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা কমবে। পাশাপাশি রেলওয়েকে পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। নদী ও রেলপথ ব্যবহার করে পণ্য আনা-নেওয়া করলে ট্রাকের তুলনায় পরিবহন খরচ প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ কমানো সম্ভব, যা শেষ পর্যন্ত বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বা সোশ্যাল সেফটি নেট নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। বর্তমানে যে পরিমাণ সাহায্য দেওয়া হয়, তা মূল্যস্ফীতির তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ওএমএস (OMS) বা কার্ডভিত্তিক রেশন ব্যবস্থায় কেবল চাল-ডাল নয়, বরং প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ডিম ও দুধের মতো পণ্যও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। অন্তত ৫ কোটি নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত মানুষকে এই ডিজিটাল রেশন কার্ডের আওতায় আনতে হবে। এটি কেবল ত্রাণ নয়, বরং সংকটের সময়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখার একটি বিনিয়োগ হিসেবে দেখা উচিত। নতুবা অপুষ্টির হার বেড়ে গিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধা ও স্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হবে। সুশাসন এবং স্বচ্ছতা ছাড়া কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বন্ধ করা এবং অর্থ পাচার রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। ২০২৬ সালের এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে আমাদের মূল অস্ত্র হওয়া উচিত ‘জাতীয় সংহতি’। সরকারি ব্যয় হ্রাসের উদাহরণ খোদ নীতিনির্ধারকদের পর্যায় থেকে আসতে হবে। বড় বড় মেগা প্রজেক্টের চেয়ে এখন ছোট ও মাঝারি শিল্প (SME) এবং কৃষিভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো বেশি জরুরি। যদি আমরা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারি, তবে বৈশ্বিক যে কোনো সংকট মোকাবিলা করা আমাদের জন্য অনেক সহজ হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক দাবানল হয়তো আমাদের হাতে নেই, কিন্তু আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজার এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা অবশ্যই আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আমরা যদি আজ বিলাসিতা বিসর্জন দিয়ে দূরদর্শী এবং জনমুখী সিদ্ধান্ত নিতে পারি, তবেই ২০২৬ সালের এই কঠিন ইতিহাস আমাদের বিজয়ী হিসেবে মনে রাখবে। বাংলাদেশের মানুষের লড়াই করার এক সহজাত ক্ষমতা আছে; সেই ক্ষমতাকে সঠিক পথে পরিচালনা করার দায়িত্ব এখন রাষ্ট্রের। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এই অর্থনৈতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে পারি, তবে এই ধ্বংসস্তূপ থেকেই এক নতুন ও শক্তিশালী বাংলাদেশের উদয় হবে। নতুবা আমাদের অবহেলা আর সঠিক পরিকল্পনার অভাব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এক বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে যাবে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এই ক্রান্তিকালে আমাদের ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যোগ করা প্রয়োজন—আর তা হলো অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ ও কর ব্যবস্থার আমূল সংস্কার। ২০২৬ সালের বাজেটে আমরা দেখেছি যে, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় সরকারকে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিতে হচ্ছে। এটি বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমিয়ে দিচ্ছে এবং মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে। আমি মনে করি, কেবল মধ্যবিত্তের ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে উচ্চবিত্তের 'সারচার্জ' বা সম্পদ করের হার পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর তথ্য মতে, আমাদের দেশে কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম নিম্ন। যদি আমরা কর আদায়ের প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি ডিজিটাল ও হয়রানিমুক্ত করতে পারি, তবে রাষ্ট্রের তহবিলে অর্থের প্রবাহ বাড়বে, যা সরাসরি জ্বালানি ভর্তুকির মতো জরুরি খাতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে যে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা, তা ভাঙার এখনই উপযুক্ত সময়। ২০২৬ সালের এই সংকটে যখন আমরা চড়া দামে এলএনজি (LNG) কিনছি, তখন আমাদের স্থলভাগ ও সমুদ্রবক্ষে পড়ে থাকা ব্ল-ইকোনমির সম্ভাবনাকে অবহেলা করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছু নয়। বাপেক্সকে শুধু একটি আজ্ঞাবহ সংস্থা হিসেবে না রেখে একে আধুনিক প্রযুক্তি ও পর্যাপ্ত স্বায়ত্তশাসন দিয়ে শক্তিশালী করা জরুরি। আমার মতে, বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পিএসসি (PSC) বা উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তির শর্তাবলি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে দ্রুত চূড়ান্ত করা উচিত। যদি আমরা অন্তত ৫ থেকে ১০ শতাংশ অভ্যন্তরীণ গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে পারি, তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা আমাদের অর্থনীতিকে এতটা নাস্তানাবুদ করতে পারবে না। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) খাতকে এই ঝড়ের হাত থেকে রক্ষা করতে বিশেষ 'এনার্জি সাবসিডি' বা সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা অপরিহার্য। পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে এই অনানুষ্ঠানিক ও ক্ষুদ্র শিল্প খাত থেকে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও লজিস্টিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি অস্তিত্ব সংকটে পড়েন। আমি প্রস্তাব করি, ব্যাংকগুলোকে এসএমই খাতের জন্য বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করার নির্দেশনা দেওয়া হোক। নতুবা বেকারত্বের হার এক ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, যা দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করবে। গ্রামভিত্তিক ছোট ছোট কোল্ড স্টোরেজগুলোতে ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ দিলে কৃষিপণ্যের পচন কমবে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃচ্ছ্রসাধন কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। আমাদের সরকারি অফিস-আদালত এবং বৃহত্ শিল্পগুলোতে এনার্জি অডিট বাধ্যতামূলক করা উচিত। আধুনিক বিশ্বে এনার্জি এফিসিয়েন্সি বা জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন খরচ ২৫-৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হচ্ছে। অথচ আমরা এখনো পুরনো আমলের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছি যা প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ ও গ্যাস অপচয় করে। আমি মনে করি, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলে শিল্পমালিকরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। এটি শুধু খরচই কমাবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে আমাদের কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলের সুবিধা পেতেও সহায়তা করবে।
যে কোনো বড় সংকট মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় শক্তি হলো স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণ। যখন সাধারণ মানুষ দেখে যে তাদের ত্যাগের বিনিময়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে মিতব্যয়িতা চর্চা হচ্ছে, তখন তাদের মনোবল বাড়ে। ২০২৬ সালের এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে জয়ী হতে হলে আমাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছার পরিচয় দিতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ হয়তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, কিন্তু আমাদের বাজারের প্রতিটি পয়েন্টে সিন্ডিকেট ভাঙা কিংবা অপচয় রোধ করা অবশ্যই আমাদের সাধ্যের মধ্যে। আমরা যদি আজ বিলাসিতা বিসর্জন দিয়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়তে পারি, তাহলে ২০২৬ সালের বিরাজমান সংকট কাটিয়ে নতুন ও আত্মনির্ভরশীল এক বাংলাদেশ সৃষ্টি হবে। না হলে ইতিহাসের পাতায় আমাদের ব্যর্থতা কেবল দীর্ঘশ্বাসের গল্প হয়েই থাকবে। ●
লেখক বেসরকারি একটি কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা
antmail00111@gmail.com
অকা/জ্বা/নিলে/সৈইহো/বিকেল/৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 5 hours আগে

