অর্থকাগজ প্রতিবেদন>
ল্যাব টেস্ট ছাড়াই বাজারে বিক্রি করছিল পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্য। শুধু তাই নয়, জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নাম ভাঙিয়ে বিক্রি হচ্ছিল নকল টয়লেট্রিজ, নকল প্রসাধনী এবং অনুমোদনহীন মিষ্টি-দই। বিএসটিআইয়ের অভিযানে বেরিয়ে এলো এমনই সব জালিয়াতি ও গুরুতর অনিয়মের চিত্র।
রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানী ঢাকা ও সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরিচালিত ৩টি পৃথক মোবাইল কোর্টে এমন অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়। অভিযানে এসিআই গোদরেজ ও আফতাব ফিডসহ মোট ৭টি প্রতিষ্ঠানকে ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা জানান, রোববার দিনব্যাপী নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, রাজধানীর বসিলা এবং হাজারীবাগ এলাকায় তিনটি পৃথক বিচারিক দল অভিযান পরিচালনা করে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পরিচালিত অভিযানে দেখা যায়, ‘এসিআই গোদরেজ অ্যাগ্রোভেট প্রাইভেট লিমিটেড’ বিএসটিআইয়ের কোনো গুণগতমান সনদ এবং মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ না নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে পোল্ট্রি ও ফিশ ফিড উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ করে আসছে। একই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয় ‘আফতাব ফিড প্রোডাক্টস লিমিটেড’।
অভিযোগে বিএসটিআই আইন-২০১৮ অনুযায়ী ২ লাখ টাকা এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন-২০১৮ অনুযায়ী ২ লাখ টাকা—ক্যাপসুল আকারে দুটি প্রতিষ্ঠানকেই ৪ লাখ টাকা করে মোট ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া রূপগঞ্জের তারাবো এলাকায় মান সনদ ছাড়া লেড এসিড স্টার্টার ব্যাটারি তৈরির অপরাধে ‘জিউজৌ ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড’ নামক প্রতিষ্ঠানকে দুই আইনে ১ লাখ টাকা করে সর্বমোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
রাজধানীর বসিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পান মোবাইল কোর্ট। সেখানকার ‘আমান কনজ্যুমার অ্যান্ড টয়লেট্রিজ’ ও ‘স্ট্যান্ডার্ড কনজ্যুমার অ্যান্ড টয়লেট্রিজ’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান নামিদামি ব্র্যান্ড লাইজল, হারপিক ও ভিম-এর নামের সঙ্গে হুবহু সাদৃশ্য রেখে মানহীন হ্যান্ডওয়াশ ও লিকুইড টয়লেট ক্লিনার তৈরি ও বাজারজাত করে আসছিল। এই অপরাধে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় মান সনদ ছাড়া মিষ্টি, বিস্কুট ও লাচ্ছা সেমাই বিক্রির দায়ে ‘মিঠাই’ নামের শোরুমকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি বিএসটিআই অনুমোদন না নিয়ে মিষ্টি ও দই বাজারজাত করায় ‘অপূর্ব আনন্দ জল খাবার’ নামের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বিএসটিআই জানায়, রূপগঞ্জে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবেকুন নাহার, বসিলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন্নেসা খানম এবং হাজারীবাগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
সর্বশেষ হালনাগাদ 3 hours আগে

