অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
২০২৫-২৬ অর্থ বছরের জন্য পেশকৃত বাজেট নিয়ে খুশি হতে পারেননি পুুঁজি বাজারের বিনিয়োগকারীরা। ৩ জুন বাজেট পরবর্তী পুঁজি বাজারের লেনদেনে এ চিত্রই ফুটে ওঠে। যেখানে বাজেট পেশকে সামনে রেখে দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে টানা তিন দিন পুঁজি বাজার সূচকের উন্নতি ঘটেছিল সেখানে ৩ জুন ছিল ভিন্ন চিত্র। লেনদেনের শুরু থেকে সূচকের নেতিবাচক আচরণের পাশাপাশি লেনদেনের ধীর গতি বিনিয়োগকারীদের হতাশারই প্রকাশ ঘটায়। এতে দিনশেষে সূচকের যেমন বড় ধরনের অবনতি ঘটে তেমনি হ্রাস পায় লেনদেনও।

প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩ জুন ২৪ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। সকালে ৪ হাজার ৬৮৯ দশমিক ৫২ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি ৩ জুন দিনশেষে ৪ হাজার ৬৬৪ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইর অন্য দু’টি সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ হারায় যথাক্রমে ৯ দশমিক ৫৭ ও ৬ দশমিক ৪১ পয়েন্ট।

দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচকে ছিল মিশ্র আচরণ। এখানে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ও সিএসই-৩০ এ দু’টি সূচকের যথাক্রমে ৩ দশমিক ১০ ও ৬ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট উন্নতি ঘটলেও ১ দশমিক ৩১ পয়েন্ট অবনতি ঘটে সিএসসিএক্স সূচকের।

সূচকের পাশাপার্শি অবনতি ঘটেছে বাজারগুলোর লেনদেনেও। ডিএসইর লেনদেনের প্রথম তিন ঘণ্টা অতিক্রম করার পর মনে হচ্ছিল বাজারটির লেনদেন ২০০ কোটি টাকা ছাড়াবে না। তবে শেষদিকে এসে কিছুটা গতি ফিরলে লেনদেন দাঁড়ায় ২২৯ কোটি টাকা যা সাম্প্রতিক সময়ে ডিএসইর সর্বনিম্ন লেনদেন। ২ জুন বাজেটে পেশের দিন বাজারটির লেনদেন ছিল ২৭৫ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে ১০ কোটি টাকা থেকে ৯ কোটিতে নেমে আসে লেনদেন।

পুঁজি বাজার সংশ্লিষ্টরা এহেন বাজার আচরণের কারণ হিসাবে বাজেটে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোন প্রণোদনা না থাকাকেই দায়ী করেছেন। মঙ্গলবার প্রস্তাবিত বাজেটে ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের জন্য প্রণোদনার পাশাপাশি তালিকাভুক্ত ও তালিকা বহির্ভূত কোম্পানির করহার ব্যবধান বৃদ্ধি করা মোটা দাগে পুঁজি বাজারের জন্য প্রণোদনা হিসাবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু এগুলো থেকে সরাসরি বিনিয়োগকারীরা লাভবান হচ্ছেন না। লভ্যাংশ ও মুনাফা আয়ের ওপর কম হার কমালেই তা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণোদনা হিসাবে গণ্য হতো। কিন্তু বাজেটে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মনে করেন বিনিয়োগককারীরা। অথচ স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর পক্ষ থেকে প্রতি বছরই এ দু’টি বিষয়ে প্রণোদনার সুপারিশ রাখা হয়ে থাকে। অথচ বরাবরই বাজেট প্রস্তাবে তা এড়িয়ে যাওয়া হয়। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়। তবে এবারের বাজেটে স্টেক হোল্ডারদের অনেকেই প্রণোদনা পেলেও বঞ্চিত থাকলেন বিনিয়োগকারীরা। আর এটার প্রকাশ ঘটল বাজার আচরণে।

এ দিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ৩ জুন লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে ব্র্যাক ব্যাংক। ৩ জুন কোম্পানিটির ১৮ কোটি ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সি পার্ল বিচ রিসোর্ট। কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৫৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার। ১০ কোটি ৬৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে লাভেলো।

লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় অন্যগুলো ছিল- ফাইন ফুডস, ওরিয়ন ইনফিউশন, মিডল্যান্ড ব্যাংক, বিচ হ্যাচারি, ফু-ওয়াং ফুডস, মালেক স্পিনিং এবং স্টান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স পিএলসি।
এদিন লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৩টির দর বেড়েছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে পাট খাতের কোম্পানি সোনালী আঁশের। এদিন কোম্পানিটির দর আগের দিনের তুলনায় ১৩ টাকা ২০ পয়সা বা ৯.২০ শতাংশ বেড়েছে। যার ফলে ডিএসইর দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার। দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা সি পার্ল বিচ রিসোর্টের শেয়ার দর বেড়েছে আগের দিনের তুলনায় ৩ টাকা ৫০ পয়সা বা ৭.৭৮ শতাংশ। আর ৬ টাকা ৩০ পয়সা বা ৬.৯১ শতাংশ দর বৃদ্ধি হওয়ায় শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা নিয়েছে নর্দান জুট।

ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে-এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড ৬.৭৩ শতাংশ, সমতা লেদার ৫.১৯ শতাংশ, জিমিনি সি ফুড ৪.১৫ শতাংশ, আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড ওয়ান ৪.০০ শতাংশ, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স ৩.৮৯ শতাংশ, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ৩.৭০ শতাংশ ও সাফকো স্পিনিং ৩.২৬ শতাংশ দর বেড়েছে।

লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩৯টির দর কমেছে। আজ সবচেয়ে বেশি দর কমেছে মিডল্যান্ড ব্যাংকের। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর আগের দিনের তুলনায় ২ টাকা ৫০ পয়সা বা ৯.০৬ শতাংশ কমেছে। যার ফলে ডিএসইর দর পতনের শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে এই কোম্পানির শেয়ার। দর পতনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে আগের দিনের তুলনায় ২ টাকা ৭০ পয়সা বা ৭.৫৮ শতাংশ। আর ২ টাকা ৩০ পয়সা বা ৬.৬৭ শতাংশ দর কমে যাওয়ায় পতনের শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা নিয়েছে সোনারগাঁও টেক্সটাইল।

দরপতনের শিকার কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যগুলোর মধ্যে যথাক্রমে উত্তরা ফাইন্যান্স ৬.৪২ শতাংশ, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ৬.০৬ শতাংশ, কেডিএস এক্সেসরিজ ৪.৯১ শতাংশ, জিল বাংলা সুগার মিলস ৪.৮৩ শতাংশ,শাশা ডেনিমস ৪.৬৯ শতাংশ, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ ৪.৪৮ শতাংশ ও ভিএফএস থ্রেড ৪.৪১ শতাংশ দর কমেছে। ●

অকা/পুঁবা/ফর/বিকাল/৪ জুন, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 9 months আগে

Leave A Reply

Exit mobile version