অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
কয়েক দিন তীব্র তাপপ্রবাহের পর সাতসকালে আকাশজুড়ে মেঘের লুকোচুরি। তারপর স্বস্তির বৃষ্টি। অনেকটা বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ১২ মে পূর্বাচলের আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইবিসিসি) আয়োজিত বাংলাদেশ ‘ডেনিম এক্সপো’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী প্রদর্শনীর প্রথম দিনে এমন চিত্রই দেখ গেল। তবে দুপুরের পর দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।
এক যুগ ধরে ধারাবাহিকভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছে বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ (বিএই)। এবারের প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, চীন, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের ৫৮টি প্রতিষ্ঠান। তবে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধের কারণে উভয় দেশের ২০টি প্রতিষ্ঠান আসেনি, এমনটাই জানালেন বিএইর পরিচালক আবু হায়দার কবির।
প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে সিম গ্রুপের আজলান ডেনিম লিমিটেড। নারায়ণগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় আজলানের কারখানায় মাসে ১৫ লাখ গজ ডেনিম কাপড় উৎপাদনের সমতা রয়েছে। ভালো ক্রয়াদেশ থাকায় কারখানা সম্প্রসারণ করছে প্রতিষ্ঠান। আগামী জুলাইয়ে তাদের উৎপাদন সমতা বেড়ে দাঁড়াবে ২৫ লাখ গজ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আজলান ডেনিমের নির্বাহী পরিচালক (বিপণন ও বিক্রয়) সানাউল হক বলেন, ‘ক্রয়াদেশ ভালো। সে জন্য আমরা ডেনিম কারখানার সম্প্রসারণ করছি।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা কী ধরনের কাপড় উৎপাদন করছি, তা প্রদর্শনীতে ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরছি। পাশাপাশি অন্যরা কী ধরনের পণ্য উৎপাদন করছে, সেগুলোও আমরা দেখছি।’
ডেনিম এক্সপোতে নিয়মিতভাবেই অংশ নেয় আরগন ডেনিম। বর্তমানে তাদের মাসিক উৎপাদন সমতা ২২ লাখ গজ। প্রতিষ্ঠানটির প্রতি গজ ডেনিম কাপড়ের গড় দাম ২ ডলার ৮০ সেন্ট। গতানুগতিক ডেনিম কাপড়ের পাশাপাশি টেকসই উপকরণে তৈরি পণ্যও আছে তাদের। এ রকম পণ্যের উৎপাদন এক-পঞ্চমাংশ।
এমন তথ্য দিয়ে আরগন ডেনিমের ব্যবস্থাপক ইয়াসিন আল ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, টেকসই উপকরণে তৈরি পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। গতানুগতিক পণ্যের চেয়ে টেকসই উপকরণে তৈরি পণ্যের দাম প্রতি গজে ১০-১৫ সেন্ট বেশি হয়।
প্রদর্শনীতে সর্বোচ্চ ৩৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে চীন থেকে। এর মধ্যে একটি ডেনিম কাপড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাক পিওনি টেক্সটাইল কোম্পানি। ঢাকায় তাদের নিজস্ব কার্যালয় রয়েছে।
ব্ল্যাক পিওনি টেক্সটাইলের বিক্রয় ব্যবস্থাপক চাও জি বলেন, বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় বাজার। এখানে বেশি দামের পোশাকের ব্যবসা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কে তাদের ব্যবসায় প্রভাব পড়ছে না।
প্রদর্শনীতে আমেরিকান অ্যান্ড ইফার্ড বাংলাদেশ, আজগার্ড নাইন, বেস্ট টেক্স কেমিক্যালস, ওয়াইকেকে বাংলাদেশ, খান এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং, ব্লুসাইন টেকনোলজিস এজি, চেরি বাটন, সিলিক্যান্ট, কালার সেন্টার এসএ, ড্যানিস, ডেনিম সলিউশনসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। ●
অকা/শিবা/ফর/রাত/১৩ মে, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 1 year আগে

