অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
২০২৫-২৬ অর্থ বছরের শুরুর প্রথম সপ্তাহের পুরোটাই সূচকের উন্নতিতে শেষ করেছে পুঁজি বাজার। ১০ জুলাই সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসেও দেশের দুই পুঁজি বাজার সূচকের উন্নতি ধরে রেখে লেনদেন শেষ করে। তবে এদিন বেশ কিছু কোম্পানিতে মুনাফা তুলে নেয়ার পরেও দুই পুঁজি বাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানির বেশির ভাগই মূল্যবৃদ্ধির ধারায় ছিল। তবে এদিন লেনদেন কমেছে দুই বাজারেই।

পুঁজি বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, গত কয়েক দিন সূচকের টানা উন্নতি ঘটলে বেশ কিছু কোম্পানিতে মুনাফা তুলে নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে এ কোম্পানিগুলোতে সংশোধন ঘটে। তা ছাড়া সামনে দুই দিন সপ্তাহিক ছুটি থাকার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশই বড় বিনিয়োগে যেতে চায় না। এটাই লেনদেন হ্রাস পাওয়ার কারণ বলে মনে করেন তারা।

প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসই-এক্স ১০ জুলাই ৩২ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ৫ হাজার ৩৫ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি ১০ জুলাই দিনশেষে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৬৮ দশমিক ০৩ পয়েন্টে। বাজারটির অন্য দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহর উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ১৪ দশমিক ৪১ ও ৬ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট। এদিন দেশের দ্বিতীয় শেয়ার বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১১৮ দশমিক ৪০ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। এখানে বিশেষায়িত দু’টি সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ৯৪ দশমিক ৮৮ ও ৬২ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট।

১০ জুলাই সকালে লেনদেনের শুরুতেই দুই বাজার সূচকে বড় ধরনের উন্নতি ঘটতে দেখা যায়। ঢাকায় ৫ হাজার ৩৫ পয়েন্ট থেকে যাত্রা করা সূচকটি প্রথম চল্লিশ মিনিটে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৯১ দশমিক ৯১ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় প্রায় ৫৭ পয়েন্ট। তবে লেনদেনের এ পর্যায়ে বাজারে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে বিক্রয়চাপ তৈরি হয়। এতে সূচক নেমে আসে ৫ হাজার ৫১ পয়েন্টে। তবে বেলা ১২টার পর ফের ঊর্ধ্বমুখী হয় বাজার সূচক। এভাবে সূচকের ওঠানামার পর দিনশেষে বৃদ্ধি পাওয়া সূচকের ৩২ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট টিকে থাকে।

এ দিকে পুঁজি বাজারে বস্ত্র খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের পুনর্বিবেচনার আবেদন বাতিল করে দিয়েছে বিএসইসি।

১০ জুলাই ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তথ্য মতে, কোম্পানিটি কনভার্টেবল বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ২০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চেয়েছিল। কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতি শেয়ারের মূল্য প্রস্তাব করা হয় ২২ টাকা।

আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের পুঁজি বাজারের তালিকাভুক্ত হয় ২০১৭ সালে। ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩৫টি। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৩০.২৪ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫.২১ শতাংশ, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫৪.৫৫ শতাংশ শেয়ার আছে।

জানা যায়, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ এক সময় সজিব নিটওয়্যার নামে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন তালিকাভুক্তির আইন লঙ্ঘন করার কারণে এক সময় কোম্পানিটি ওটিসি মার্কেটে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে নতুন উদ্যোক্তা কোম্পানিটি পরিচালনায় দায়িত্ব নিয়ে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ নামে ২০১৭ সালে পুনরায় দুই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ১০ জুলাই লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে ব্র্যাক ব্যাংক। ২১ কোটি ২৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকায় কোম্পানিটির ৩৬ লাখ ৫২ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়। ১৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় ৩১ লাখ ২৬ হাজার শেয়ার হাতবদল করে লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বিচ হ্যাচারি। ১৪ কোটি ১৫ লাখ ৭১ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন করে শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে লাফার্জহোলসিম।

লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ছিল সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, লাভেলো আইসক্রিম, ওরিয়ন ইনফিউশন, মাগুরা মাল্টিপ্লেক্স, মিডল্যান্ড ব্যাংক, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, অগ্নি সিস্টেমস এবং ফাইন ফুডস।

এদিন লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯৬টির দর বেড়েছে। আর দরবৃদ্ধির শীর্ষস্থানে উঠে আসে বস্ত্র খাতের কোম্পানি রহিম টেক্সটাইলস। এদিন কোম্পানিটির দর আগের দিনের তুলনায় ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ বেড়েছে। ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ছিল একই খাতের কোম্পানি দেশ গার্মেন্ট। ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে আরো ছিল জেমিনি সি ফুডস, এনার্জি প্যাক পাওয়ার জেনারেশন, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ফরচুন সুজ, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, ন্যাশনাল ব্যাংক ও এপেক্স স্পিনিং ৭.৪৩ শতাংশ দর বেড়েছে।

১০ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৮টির দর কমেছে। দরপতনের শীর্ষে ছিল ব্যাংকিং খাতের কোম্পানি মিডল্যান্ড ব্যাংক। এদিন ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি।

দর পতনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা হাইডেলবার্গ সিমেন্টের দর কমেছে ৪.১৫ শতাংশ। ৩.২০ শতাংশ দর কমে যাওয়ায় পতনের শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা নিয়েছে গোল্ডেন হারভেস্ট। দর পতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রানার অটোমোবাইলস ২.৮৬ শতাংশ, এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড ২.৮২ শতাংশ, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২.৬০ শতাংশ, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ ২.৫৬ শতাংশ, গোল্ডেন সন ২.৫০ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ২.৪১থ শতাংশ এবং জাহিন টেক্সটাইল ২.৩৮ শতাংশ কমেছে। ●

অকা/পুঁবা/ফর/বিকাল/১১ জুলাই, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 8 months আগে

Leave A Reply

Exit mobile version