অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
সূচক লেনদেনের টানা উন্নতিতে হঠাৎ ছন্দপতন ঘটল পুঁজি বাজারে। ১৩ জুলাই সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেনের শুরুতে হঠাৎ বিক্রয়চাপ বেড়ে বড় ধরনের সূচক হারায় দেশের দুই পুঁজি বাজার। পরবর্তীতে বাজারগুলো হারানো সূচক ফিরে পেলেও হঠাৎ এ ছন্দপতনে দিনের বাকি সময় আর সাবলিলতা ফিরে পায়নি বাজারগুলো। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজার সবগুলো সূচকের উন্নতি হলেও ঢাকা শেয়ারবাজারে ছিল সূচকের মিশ্র আচরণ। কমেছে উভয় বাজারের লেনদেনও।

প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩ জুলাই ১ দশমিক ৬০ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ৫ হাজর ৬৮ দশমিক ০৩ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি ১৩ জুলাই দিনশেষে স্থির হয় ৫ হাজার ৬৬ দশমিক ৪৩ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসইর অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচকটিও ০ দশমিক ০৪ পয়েন্ট হারায়। তবে ডিএসই শরিয়া সূচক ২ দশমিক ১০ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

অপরদিকে, দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১৩ জুলাই ৪৭ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। এখানে বাজারটি অন্য দু’টি সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৪৪ দশমিক ৭০ ও ২৪ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট।

পুঁজি বাজার সংশ্লিষ্টরা ১৩ জুলাইর বাজার আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা দেখছেন। তাদের মতে, সংবেদনশীল পুঁজি বাজারে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সব বিষয়ই প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক শুল্ক আরোপ নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র দুই পক্ষের মধ্যে আলাপ-আলোচনা গতি না পাওয়ায় আগামী দিনগুলোতে দেশটিতে তৈরি পোশাক রফতানিতে যে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে তার প্রভাব পড়তে পারে বাজারে। ১৩ জুলাই কিছু কিছু প্রচার মাধ্যমে দেশটির বেশ কিছু ক্রেতা কর্তৃক ক্রয়াদেশ স্থগিত করা সম্পর্কিত রিপোর্ট প্রকাশ পেয়েছে। আবার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির হঠাৎ অবনতি নিয়েও বাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অস্বস্তি।

১৩ জুলাই রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত বিভিন্ন ব্রোকার হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের ট্রেডিং ফোরগুলো ঘুরে বিনিয়োগকারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বাজার নিয়ে তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও গত কয়েকদিনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি ঘটছে তাতে তারা নতুন করে শঙ্কিত। কারণ দীর্ঘদিন ধরে পুঁজি বাজারে যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল তা পুরোপুরি কাটিয়ে না উঠতেই দেশে নতুন করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা বাজারকে অবশ্যই প্রভাবিত করবে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত শুল্ক নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে আলোচনা চলছিল তাও খুব একটা এগোচ্ছে না। এসব বিষয় এখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি করেছে। আর এর যথারীতি প্রভাব পড়ছে বাজারের লেনদেনে। তারা মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্থি ফিরলেও দেশের রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পুঁজি বাজার ভালো পারফর্ম করতে পারবে না। কারণ অতিসম্প্রতি বাজার কিছুটা ইতিবাচক ধারায় ফিরলেও তা এখনো পুরোপুরি টেকসই হয়নি।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস ১৩ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে ব্যাংকিং খাতের কোম্পানি মিডল্যান্ড ব্যাংক। ২০ কোটি ৫৭ লাখ ২১ হাজার টাকায় কোম্পানিটির ৮০ লাখ ৩৮ হাজার শেয়ার লেনদেন হয় ১৩ জুলাই । ১৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকায় ১৭ লাখ ৩৯ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে লাভেলো আইসক্রিম। ১৬ কোটি ১৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে সি পার্ল বিচ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট।

লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সিটি ব্যাংক, বীচ হ্যাচারি, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, কাসেম ইন্ডাস্ট্রিস, ব্র্যাক ব্যাংক, শাহজিবাজার পাওয়ার এবং টেকনো ড্রাগ।

ডিএসইতে ১৩ জুলাই লেনদেনে অংশ নেয়া ৪০২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৭টির দর বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে বিবিধ খাতের কোম্পানি আরামিট লিঃ’র। ১৩ জুলাই ৯ দমমিক ৯৮ শতাংশ দর বাড়ে কোম্পানিটির। ৯.৯৮ শতাংশ দর বৃদ্ধি হওয়ায় শীর্ষ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে জেমিনি সি ফুড। এছাড়া দরবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় উঠে আসা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে আরো ছিল যথাক্রমে কাসেম ইন্ডাস্ট্রিজ, রহিমা ফুড, জিকিউ বলপেন, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, সমতা লেদার, বিডি আটোকার ও স্যালভো কেমিক্যালস।

এদিন লেনদেনে অংশ নেয়া ৪০২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭০টির দর কমেছে। সবচেয়ে বেশি দর কমেছে ফ্যামিলি টেক্সের। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর আগের দিনের তুলনায় ২০ পয়সা বা ৮.০০ শতাংশ কমেছে। যার ফলে ডিএসইর দর পতনের শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্থানে স্থান নিয়েছে এই কোম্পানির শেয়ার। দর পতনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা রূপালী ব্যাংকের দর কমেছে আগের দিনের তুলনায় ১ টাকা ৫০ পয়সা বা ৬.২৫ শতাংশ।

৫.৩৬ শতাংশ দর কমে যাওয়ায় পতনের শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা নিয়েছে পেনিনসুলা চিটাগাং। এছাড়া ডিএসইতে দর পতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে- দেশ গার্মেন্ট ৪.৭৭ শতাংশ, লাভেলো ৪.২২ শতাংশ, এবি ব্যাংক ৪.১৭ শতাংশ, ভিএফএস থ্রেড ৪.১৭ শতাংশ, এস কে ট্রিমস ৩.৭৭ শতাংশ, সান লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৩.৭৪ শতাংশ এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৩.৭০ শতাংশ দর কমেছে।

ঢাকায় ১৩ জুলাই দুই লাখ সাত হাজার ২০৬টি হাওলায় মোট ২৬ কোটি ৮০ লাখ শেয়ার বেচাকেনা হয় যার বাজারমূল্য ছিল ৬৬৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এই অঙ্ক আগের দিন অপেক্ষা ১৪ কোটি টাকা কম। ১০ জুলাই ডিএসইর মোট লেনদেন ছিল ৬৭৯ কোটি টাকা। অপরদিকে চট্টগ্রামে ১৪ কোটি টাকা থেকে ৬ কোটিতে নেমে আসে লেনদেন। ●

অকা/পুঁবা/ফর/রাত/১৩ জুলাই, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 8 months আগে

Leave A Reply

Exit mobile version