অর্থকাগজ প্রতিবেদন

মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটের মধ্যেই বেড়েছে দেশে সঞ্চয়পত্র বিক্রি। আগের অর্থবছরের চেয়ে তিন গুণ বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। করোনার সময়ে একদিকে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে কর্ম হারানোর আশঙ্কা। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের আয় অনেক কমে গেছে। ফলে সঞ্চয়ও কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উলটোটা। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ এত বেড়েছে যে সর্বকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হলো এই করোনার সময়ে।

জানা গেছে, সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করা হয়। মহামারির সময়ে ভবিষ্যত্ নিয়ে শঙ্কিত। এই সময়ে নিরাপদ জায়গায় বিনিয়োগ করাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছে সাধারণ মানুষ। নিরাপদ জায়গা বিবেচনা ছাড়াও মুনাফার দিক থেকে ব্যাংকের চেয়ে বেশি পাওয়া যায় সঞ্চয়পত্র থেকে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এ খাতেই বেশি ঝুঁকেছেন।

বিদায়ি অর্থ বছরে (২০২০-২১) সরকার আগের অর্থ বছরের চেয়ে তিন গুণ বেশি ঋণ নিয়েছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদায়ি অর্থ বছরে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে নিট প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা আগের অর্থ বছরে ছিল ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের উপাত্ত বলছে, সদ্য শেষ হওয়া ২০২০-২১ অর্থ বছরে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এর আগে কোনো বছরে এত বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়নি। সঞ্চয়পত্র বেশি বিক্রি হওয়ার কারণে সরকারের ওপর দায় বাড়ছে। এজন্য সরকার গত কয়েক বছর ধরেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমানোর জন্য নানা শর্ত জুড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে গত দেড় বছর ধরে দেশে করোনার প্রকোপ চলছে। এমন পরিস্থিতিতেও প্রতি মাসেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ছে।

#

সর্বশেষ হালনাগাদ 5 years আগে

Leave A Reply

Exit mobile version