অর্থকাগজ প্রতিবেদন>
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আরও বাড়াতে হলে ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক বাণিজ্য, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার এখনই উপযুক্ত সময়।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সহযোগিতায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন প্রচলিত সহায়তানির্ভর সম্পর্কের পরিবর্তে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং যৌথ সমৃদ্ধির ভিত্তিতে প্রকৃত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়। তার ভাষায়, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অর্থ যুক্তরাষ্ট্র একা চলবে— এমন নয়। বরং যেসব দেশের সঙ্গে অভিন্ন অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে, তাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে উভয় দেশের প্রবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করাই এ নীতির লক্ষ্য।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, উদ্ভাবন, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সহযোগিতার নতুন ভিত্তি তৈরি হবে।
বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থনীতির দেশ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, দেশের তরুণ কর্মশক্তি, শক্তিশালী বেসরকারি খাত এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং সবার জন্য সমান ব্যবসায়িক সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত উৎপাদনশিল্প, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি জ্বালানি খাতে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন গতি এনেছে এবং বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
এ সময় বাংলাদেশে মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে অ্যামচেম বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত। বিশেষ করে জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন নীতিগত সংস্কারে সরকারের সঙ্গে সংগঠনটির গঠনমূলক সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের জন্য মার্কিন উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
সর্বশেষ হালনাগাদ 3 hours আগে

