কামরুজ্জামান চাঁদ, বিশেষ প্রতিনিধি>
জুন মাসে দেশের রফতানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও শিল্প খাতে স্বস্তি ফিরছে না। বরং রফতানিমুখী কারখানাগুলোতে নতুন ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় উৎপাদন কমছে, একের পর এক কারখানা বন্ধ হচ্ছে এবং কর্মহীন হয়ে পড়ছেন লাখো শ্রমিক। উদ্যোক্তাদের মতে, এক মাসের রফতানি প্রবৃদ্ধি দেশের শিল্প খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। সামনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে দেশের পণ্য রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির বড় কারণ হিসেবে উদ্যোক্তারা দেখছেন কার্যদিবসের সংখ্যা বৃদ্ধি। গত বছর ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির কারণে উৎপাদন ও জাহাজীকরণ ব্যাহত হয়েছিল। এবার সেই বাধা না থাকায় জুনের রফতানি পরিসংখ্যান তুলনামূলক বেশি এসেছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের নতুন অর্ডার প্রত্যাশিত হারে আসছে না। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় ক্রেতারা এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান আগের অর্ডার শেষ করেই নতুন কাজের অপেক্ষায় আছে। ফলে বেশ কিছু কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, আবার কোথাও কোথাও উৎপাদন লাইন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
শিল্প-পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে প্রায় ৪৫৭টি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, ছোট ও মাঝারি শিল্প যুক্ত করলে এ সংখ্যা আরও বেশি। এসব কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু তৈরি পোশাক খাতেই প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। এছাড়া অনেক কারখানায় অতিরিক্ত সময়ের কাজ বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের আয়ও কমে গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু অর্ডার সংকটই নয়, উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি, জ্বালানির উচ্চ মূল্য, ব্যাংক ঋণের সুদ বৃদ্ধি, ডলারের চাপ এবং কাঁচামালের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে পণ্যের দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসান দিয়েই উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে নতুন রফতানি আদেশের অন্যতম সূচক ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন (ইউডি) কমে যাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত নতুন অর্ডারের পরিমাণ কমেছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক মাসে নতুন অর্ডার না বাড়লে আরও কারখানা উৎপাদন কমাতে বা বন্ধ করতে বাধ্য হবে।

