বিশেষ প্রতিনিধি>
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে বৈষম্যমূলক কর কাঠামোই বহাল রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের চাপ বাড়লেও উচ্চ আয়ের ব্যক্তি ও কর ফাঁকিদাতাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার সিপিডি ও ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সংলাপে এ মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়। ‘ট্যাক্স জাস্টিস ইন দ্য ন্যাশনাল বাজেট: অবজারভেশনস অন ফিসকাল প্রপোজালস ফর এফওয়াই ২০২৬-২৭’ শীর্ষক আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট তামিম আহমেদ।
প্রবন্ধে বলা হয়, বাজেটে রাজস্ব আহরণের প্রধান উৎস হিসেবে ভ্যাটের ওপর নির্ভরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে। মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশ ভ্যাট থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ ভ্যাট এমন একটি কর, যা ধনী ও দরিদ্র উভয়কেই সমান হারে পরিশোধ করতে হয়। ফলে প্রকৃত অর্থে এর চাপ বেশি পড়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর।
সিপিডির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেলেও করমুক্ত আয়সীমা প্রথম দুই বছরের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এতে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে।
সংস্থাটি বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বৈধ করার সুযোগেরও সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, নিয়মিত কর প্রদানকারী নাগরিকদের তুলনায় কর ফাঁকিদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া কর সংস্কৃতির জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে এবং সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করে।
গবেষণায় আরও বলা হয়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কর ফাঁকি ও কর পরিহারের কারণে দেশের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থ উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগের পরিবর্তে সরকার পরোক্ষ করের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই বেশি রাজস্ব সংগ্রহের পথ বেছে নিচ্ছে।
সিপিডির মতে, সম্পদ বৈষম্য কমাতে সম্পদ কর ও উত্তরাধিকার করের মতো ব্যবস্থা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কর ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সংগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ভ্যাটের ওপর নির্ভরতা কমানো, প্রত্যক্ষ করের আওতা সম্প্রসারণ, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করমুক্ত আয়সীমা পুনর্নির্ধারণ এবং কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সুপারিশ করেছে সিপিডি।
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 hours আগে

