অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
ইন্টারনেট না থাকায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল দিতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। ২৩ জুলাই কিছু কিছু এলাকায় ইন্টারনেট চালু হলেও ২৪ জুলাই ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। তিতাস, ডিপিডিসি ও ডেসকোর অফিসগুলোতে গ্রাহকদের লম্বা লাইন। এরমধ্যে অনেকে শেষ পর্যন্ত বিল জমা দিতেও পারেননি।
২৪ জুলাই ডিপিডিসি ও ডেসকোর স্থানীয় অফিসগুলোতে বিদ্যুৎ বিল দিতে ভিড় করেন গ্রাহকরা। টানা ছুটির পর অফিস খোলায় লম্বা লাইন থাকায় অনেকে শেষ পর্যন্ত বিল জমা দিতেও পারেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে তিতাসের অফিসের অবস্থাও একই। গ্যাসের বিল দিতে তিতাসের অফিসে যান হাসান আহমেদ। সকাল ১০টায় লাইনে দাঁড়িয়ে বেলা ২টা নাগাদ বিল দিতে সক্ষম হন। তিনি জানান, কারফিউর সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে, অনেকে লম্বা লাইনে অধৈর্য হয়ে বিল না দিয়ে ফিরে গেছেন।
ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা মহসীন আলী জানান, হুট করে দেখি বিদ্যুৎ চলে গেছে। পাড়ার দোকানে যেখানে রিচার্জ করতাম ২৩ জুলাই সেখানে গেলে তারা রিচার্জ করে দেয়নি। ২৪ জুলাই বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ডেসকোর প্রিপেইড মিটার রিচার্জ কেন্দ্রে যাই। সেখানেও লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা রিচার্জ করলে বিদ্যুৎ আসে।
ঢাকার বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হুট করে দেশের এই পরিস্থিতির কারণে রিচার্জের সমস্যায় পড়েছেন গ্রাহকরা। তবে এই পরিস্থিতি কী করে স্বাভাবিক করা যায় সে বিষয়ে সরকার চেষ্টা করছে। ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপিত হলেই সমস্যা কেটে যাবে। ইতোমধ্যে কোনও কোনও এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ আসতে শুরু করেছে। এসব এলাকার গ্রাহকরা স্বাভাবিক রিচার্জ করতে পারছেন। আশা করা হচ্ছে ২৫ জুলাই নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ডেসকো ও ডিপিডিসির পোস্ট-পেইড গ্রাহকদের যাদের জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সময়সীমা ২০ জুলাই বা তৎপরবর্তী ছিল তারা বিলম্ব মাসুল ছাড়াই ৩১ জুলাই পর্যন্ত বিল পরিশোধ করতে পারবেন।
এর আগে, ১৮ জুলাই থেকে ইন্টারনেট বন্ধের কারণে ডিপিডিসি ও ডেসকোর প্রি-পেইড মিটারের গ্রাহকরা রিচার্জ করতে পারছিলেন না। এসময় প্রি-পেইড মিটার গ্রাহকদের দুর্ভোগ কমাতে স্থানীয় অফিস থেকে সিঙ্গেল ফেইজ গ্রাহককে ৩ হাজার টাকা ও থ্রি-ফেইজ গ্রাহককে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে ব্যালেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করে ডেসকো ও ডিপিডিসি।
তিতাস জানায়, গ্যাসের ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সের জন্য প্রি-পেইড মিটারের ‘বি’ বাটন ৫ সেকেন্ড চেপে ‘এ’ বাটন চাপতে হবে।
কোটা আন্দোলনের জেরে দেশে বিদ্যুতের ৫টি উপকেন্দ্রে আগুন দিয়েছে দুর্বিত্তরা। এতে ক্ষতির শিকার হয় অনেক উপকেন্দ্র।
এদিকে বিদ্যুৎ সমিতি ১, জোনাল অফিস, মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২-এর অফিস ও যানবাহনে সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে বিদ্যুতের প্রায় ১০০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়। ●
অকা/জ্বালানি/ফর/সকাল/২৫ জুলাই, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 years আগে

