অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
২০২০ সালে দেশের চতুর্থ প্রজন্মের জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তুলনামূলক ব্যবসায়ে সোনালী লাইফ শীর্ষে রয়েছে। ১৩টি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ ক্ষেত্রে নিম্নে অবস্থান করছে যমুনা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে প্রাপ্ত উপাত্তে তা জানা গেছে। ২০১৯ সালের চেয়ে ২০২০ সালে অর্জিত মোট প্রিমিয়াম আয় বেশি, সে বিবেচনায় চতুর্থ প্রজন্মের জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রথম সোনালী লাইফ, দ্বিতীয় মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আলফা ইসলামী লাইফ।
উপাত্ত অনুযায়ি ২০২০ সালে সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর মোট বীমা প্রিমিয়াম আয় ১৩৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটির এ অংক ছিলো ৮১ কোটি ৮ লাখ টাকা। মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ২০২০ সালে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ, ২০১৯ সালে ১৭ কোটি ১৯ লাখ, আলফা ইসলামী লাইফ ২০২০ সালে ১৯ কোটি ১৩ লাখ, ২০১৯ সালে ৩ কোটি ৮৬ লাখ, চার্টার্ড লাইফ ২০২০ সালে ৩১ কোটি ২৯ লাখ, ২০১৯ সালে ১৬ কোটি ৭৪ লাখ, স্বদেশ লাইফ ২০২০ সালে ১০ কোটি ১৫ লাখ, ২০১৯ সালে ১ কোটি ৬২ লাখ, প্রটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ২০২০ সালে ৩৬ কোটি ৭৫ লাখ, ২০১৯ সালে ৩১ কোটি ৩২ লাখ,এনআরবি গ্লোবাল ২০২০ সালে ১৩ কোটি ৫ লাখ, ২০১৯ সালে ৮ কোটি ৯০ লাখ, বেস্ট লাইফ ২২ কোটি ৫৫ লাখ, ২০১৯ সালে ১৮ কোটি ৯৭ লাখ, গার্ডিয়ান লাইফ ২০২০ সালে ২৮৪ কোটি ৫৭ লাখ, ২০১৯ সালে ২৮১ কোটি ৭১ লাখ, ডায়মন্ড লাইফ ২০২০ সালে ১৪ কোটি ৮৬ লাখ, ২০১৯ সালে ১২ কোটি ৪৮ লাখ, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ২০২০ সালে ২৮ কোটি ৯ লাখ, ২০১৯ সালে ২৬ কোটি ২৫ লাখ এবং যমুনা লাইফ ২০২০ সালে ১১ কোটি ২৮ লাখ, ২০১৯ সালে ৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আয় করে।
২০১৯ সাল থেকে ২০২০ সালে চতুর্থ প্রজন্মের ১২টি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা বাড়লেও কমেছে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটড এর। প্রিমিয়াম আয় হ্রাসের কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এস. এম. নূরুজ্জামান অর্থকাগজকে জানান, ২০২০ সাল অতিমারি করোনার কারণে মাঠ পর্যায়ে বীমা কর্মীরা বের হতে পারেননি। তাছাড়া আমাদের পরিচালনা পর্ষদ এজেন্ট কমিশন হার কমিয়ে দিয়েছে।
সোনালী লাইফের ব্যবসা স্ফীতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২০ সালে অর্জিত মোট প্রিমিয়ামের সঙ্গে পরিচালকদের উৎসাহব্যঞ্জক বিনিয়োগ তহবিল যুক্ত রয়েছে। এমনটি অনেক প্রতিষ্ঠানই করছে।
মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটড এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সায়দুল আমিন বলেন, চলাচলে করোনার লকডাউন ও নিষেধাজ্ঞা না থাকলে আমাদের প্রতিষ্ঠান আরও ভালো করতো। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আগের মতো নেই। বীমা কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে যেতে শুরু করেছেন। আশা করি, ২০২১ সালের বাকি সময় আমাদের ভালোই যাবে।
অতিমারির মধ্যেও ভালো ব্যবসার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটড এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিকী (ওভি) অর্থকাগজকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা রাজধানীর বাইরে দুর্যোগে গ্রাহকদের বাড়ী বাড়ী গিয়েছি। বুদ্ধি ও পরামর্শও তাদের কাছ থেকে নিয়েছি। সহযোগিতা তাঁরাও আমাদের দিয়েছেন। এর ফল আমরা পেয়েছি।
#
সর্বশেষ হালনাগাদ 5 years আগে
