অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
১ হাজার ৩৫৫ কোটি ৮৯ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয়ে স্পট মার্কেট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়া ৬১৬ কোটি ৬৯ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে সার, চিনি, ছোলা ও সয়াবিন তেল কেনারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থ, বাণিজ্য এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভা শেষে উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বার বার বলেছি, অত্যাবশ্যকীয় জিনিসের ঘাটতি হতে দেব না। সার, চিনি, ছোলা, সয়াবিন তেল এ চারটিই খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ চার পণ্য কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছি। সয়াবিন ও ছোলাটা রোজার জন্য। আমরা হয়তো কিছুদিন পর খেজুরের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেব। কোনোক্রমেই যাতে সাধারণ মানুষের কষ্ট না হয় সেটা আমরা দেখব।’
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মেসার্স এক্সিলারেট এনার্জি এলপি থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪ ডলার ৫৫ সেন্ট হিসাবে এক কার্গো এলএনজি কিনতে ব্যয় হবে ৬৮৬ কোটি ৩৮ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ টাকা। আরেক কার্গো এলএনজি কিনতে প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪ ডলার ৬৫ সেন্ট হিসাবে ব্যয় হবে ৬৬৯ কোটি ৫০ লাখ ৭৯ হাজার ৩০০ টাকা। সব মিলিয়ে দুই কার্গো এলএনজি কিনতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৩৫৫ কোটি ৮৯ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে কাতার, সৌদি আরব ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৯০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৪০১ কোটি ৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা। এর মধ্যে কাতারের মুনতাজাতের কাছ থেকে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কিনতে ব্যয় হবে ১৩১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। প্রতি টন সারের দাম পড়বে ৩৬৬ ডলার। সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির কাছ থেকে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানিতে ব্যয় হবে ১৩৭ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার টাকা। প্রতি টন সারের দাম পড়বে ৩৮২ দশমিক ৬৭ ডলার। স্থানীয় প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) কাছ থেকে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনায় ব্যয় হবে ১৩১ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে প্রতি টন সারের দাম পড়বে ৩৬৫ ডলার ৩৭৫ সেন্ট।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য চিনি, ছোলা ও সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এর মধ্যে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টন চিনি কিনতে ব্যয় হবে ৬০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। প্রতি কেজি চিনির দাম পড়বে ১২০ টাকা ৯২ পয়সা। অস্ট্রেলিয়ার দুই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১০ হাজার টন ছোলা কিনতে ব্যয় হবে ১০১ কোটি ৯৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রতি কেজি ছোলার দাম পড়বে ১০৭ টাকা ৩৯ পয়সা। বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রডাক্টস লিমিটেডের কাছ থেকে ৩২ লাখ ৬০ হাজার লিটার সয়াবিন তেল কিনতে ব্যয় হবে ৫৩ কোটি ১৮ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে প্রতি লিটার তেলের দাম পড়বে ১৬৩ টাকা ১৫ পয়সা। ●
অকা/জ্বালানি/ফর/দুপুর/৩১ অক্টোবর, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 years আগে

