অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
দেশে জ্বালানি আমদানি ও বিপণনের একমাত্র মতা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব কোম্পানির মাধ্যমে আমদানীকৃত বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি দেশের বিভিন্ন খাতের কাছে বিক্রি করে। এর মধ্যে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড সমাপ্ত অর্থ বছরে প্রায় ১৫ ধরনের ২৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টন বা ৩৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ জ্বালানি বিক্রি করে শীর্ষস্থানে রয়েছে। ২৩ লাখ ৭০ হাজার ৩৭০ টন বা ৩৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ জ্বালানি বিক্রি করে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড। ১৬ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯৭ টন বা ২৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ জ্বালানি বিক্রি করে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড। এছাড়া স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (এসএওসিএল), এলপি গ্যাস লিমিটেড (এলপিজিএল) ও ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস ব্লেন্ডার্স পিএলসি (ইএলবিএল) সীমিত পরিসরে জ্বালানি বিক্রি করে পরবর্তী তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
মূলত জেট ফুয়েল বিক্রিতে একক আধিপত্য থাকায় পদ্মা অয়েল কোম্পানি জ্বালানি বিক্রিতে শীর্ষস্থানে রয়েছে। যদিও মেঘনা পেট্রোলিয়াম জ্বালানি বিক্রিতে নিজেদের অংশীদারত্ব বাড়িয়েছে। তবে সার্বিকভাবে জ্বালানি বিক্রি অর্থ বছরের ব্যবধানে কমেছে ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৭৭৫ টন।
বিপিসির তথ্যমতে, সমাপ্ত অর্থ বছরে পদ্মা অয়েল কোম্পানি ২৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টন বা ৩৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ জ্বালানি বিক্রি করেছে। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ২৬ লাখ ৯০ হাজার ১২২ টন বা ৩৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ২০২১-২২ অর্থ বছরে ২৫ লাখ ৪ হাজার ১০৪ টন বা ৩৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ জ্বালানি বিক্রি করেছিল। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে বিক্রির হার ছিল ৩৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
পদ্মা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান বলেন, ‘আমরা নিয়মিত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ডিপোগুলোয় জ্বালানি সরবরাহ করছি। ডিপোতে জ্বালানি সময়মতো মজুদ রাখার কারণে সরবরাহে কোনো সমস্যা হয় না। তাছাড়া আমাদের মার্কেটিং টিমও গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে কাজ করছে। এসব কারণে জ্বালানি বিক্রিতে পদ্মা অয়েলের অংশীদারত্ব বেড়েছে।’
এদিকে তিন বছর আগেও জ্বালানি বিক্রিতে শীর্ষে ছিল মেঘনা পেট্রোলিয়াম। সমাপ্ত অর্থ বছরে প্রতিষ্ঠানটি জ্বালানি বিক্রি করেছে ২৩ লাখ ৭০ হাজার ৩৭০ টন বা ৩৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৪২১ টন বা ৩৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ, ২০২১-২২ অর্থ বছরে ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৮৬৩ টন বা ৩৫ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং ২০২০-২১ অর্থ বছরে জ্বালানি বিক্রি করেছে রেকর্ড ৩৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।
এদিকে যমুনা অয়েল কোম্পানি সমাপ্ত অর্থ বছরে ১৬ লাখ ৮৮ হাজার ৮৯৭ টন বা ২৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ জ্বালানি বিক্রি করেছে। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ১৯ লাখ ৪২ হাজার ৬০৯ টন বা ২৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ, ২০২১-২২ অর্থ বছরে ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং ২০২০-২১ অর্থ বছরে বিক্রির হার ছিল ২৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
বিপিসি ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে মোট জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে ৬৭ লাখ ২৭ হাজার ৬০১ টন। এর মধ্যে ডিজেল ৪২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৭৯ টন, ফার্নেস অয়েল ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৯১২, পেট্রল ৪ লাখ ৩০ হাজার ৯৫২, অকটেন ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৫৬, জেট ফুয়েল ৫ লাখ ৪১ হাজার ৩৩, কেরোসিন ৬৯ হাজার ৮৭৪, বিটুমিন ৪৭ হাজার ৬৫৯, লুব অয়েল ১৫ হাজার ৮৯১, মেরিন ফুয়েল ২৭ হাজার ৫৬১, এলপিজি ১১ হাজার ৫৮৯, জেবিও ১০ হাজার ২৬, গ্রিজ ১২৪, এসবিপি ৪ হাজার ৬৮৪, এমটিটি ৩ হাজার ৪৭৯ এবং এলওডি ৪১১ টন বিক্রি হয়েছে।
বর্তমানে দেশের জ্বালানি খাত স্থিতিশীল রয়েছে দাবি করে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিবহন) অনুপম বড়ুয়া বলেন, ‘চাহিদাপত্র অনুযায়ী আমরা কোম্পানিগুলোকে জ্বালানি সরবরাহ করি। মেগা প্রকল্প না থাকায় চাহিদা কিছুটা কমে গেলেও দেশের বাজারে জ্বালানির সংকট নেই। বিশ্ব বাজারে যতই সংকট থাকুক না কেন আমরা দেশে জ্বালানি সরবরাহ ও মজুদ নিশ্চিত করেছি এবং বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর বকেয়া নিয়মিতভাবে পরিশোধ করা হয়েছে। ●
অকা/জ্বালানি/ফর/রাত/১৪ অক্টোবর, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 years আগে

