অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
পুঁজি বাজারে সূচকের উন্নতি গড়াল টানা তৃতীয় দিনে। আর এ তিন দিনে দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টকের সূচক বেড়েছে ৭৪ পয়েন্টের বেশি। বাজেটকে সামনে রেখেই সূচকের এ উন্নতি ঘটেছে এমনটিই মনে করেন পুঁজি বাজার সংশ্লিষ্টরা। পুঁজি বাজারের চলমান মন্দা কাটাতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও এর অংশীজনদের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বাজেটে পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপের প্রত্যাশা তৈরি হওয়ায় সূচকের এ উন্নতি ঘটেছে বলে মনে করছেন তারা।
এর আগে টানা পতনের ফলে বড় ধরনের সঙ্কটের মুখে ছিল পুঁজি বাজার। প্রায় প্রতিদিনই বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ যেন নিয়মে পরিণত হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টেক হোল্ডাররা একের পর এক বৈঠক করে যাচ্ছিলেন। এ পর্যায়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টাও এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক করেন। তবুও পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেনি। এ সময় টানা ছয় দিনের দরপতনে ১৮৬ পয়েন্ট হারায় দেশের প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। দেশের দ্বিতীয় পুঁজি বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচকটির অবনতি ঘটে ২০০ পয়েন্টের বেশি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২ মে ২১ দশমিক ১৬ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে। ২ মে ৪ হাজার ৬৬৮ দশমিক ৪০ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি দিনশেষে ৪ হাজার ৬৮৯ দশমিক ৬২ পয়েন্টে স্থির হয়। এ সময় বাজারটির অপর দুই সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৮ দশমিক ২১ ও ৫ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট।
তবে একই দিনে চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে (সিএসই) ছিল ভিন্ন চিত্র। এখানে সূচকের মিশ্র আচরণ ঘটতে দেখা যায়। বাজারটির মৌলভিত্তির কোম্পানি নিয়ে গড়া বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ৪৯ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখলেও বাজারটির প্রধান সূচক হিসেবে পরিচিত সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ও সিএসসিএক্স সূচক দু’টির আচরণ ছিল নেতিবাচক। উল্লিখিত দু’টি সূচক যথাক্রমে ২৮ দশমিক ৪২ ও ১৪ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট হ্রাস পায়।
বাজার আচরণের এ ইতিবাচক ধারা বাজেট-পরবর্তী সময়ে অব্যাহত থাকলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার যে সঙ্কট চলছে তা কিছুটা হলেও দূরীভূত হবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। ২ মে পুঁজি বাজারে সূচকের উন্নতির পেছনে বড় ভূমিকা ছিল ব্যাংক ও বীমা খাতের। মূলধনসমৃদ্ধ এ দু’টি খাতের বেশির ভাগ কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধিই মূলত ডিএসইতে বাজার সূচককে এগিয়ে রাখে।
একইভাবে চট্টগ্রামেও সিএসই-৩০ সূচকটির একই কারণে উন্নতি ঘটতে দেখা যায়।
২ মে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল ব্যাংকিং কোম্পানি ব্র্যাক ব্যাংক। ৩১ কোটি ছয় লাখ ৮১ হাজার টাকায় কোম্পানিটির ৬৪ লাখ ৯০ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে ২ মে। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে স্কয়ার ফার্মা। ১৪ কোটি ২২ লাখ ৪৬ হাজার টাকায় কোম্পানিটির সাত লাখ তিন হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। পাঁচ কোটি ৯২ লাখ ৪৪ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে বিচ হ্যাচারি। লেনদেনের শীর্ষ দশের তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- ফাইন ফুডস, মালেক স্পিনিং , বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি), সিটি ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, লাভেলো আইসক্রিম এবং ওরিয়ন ইনফিউশন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ২ মে লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০৯টির দর বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে নর্দান জুট-এর। এ দিন কোম্পানিটির দর আগের দিনের তুলনায় সাত টাকা আট পয়সা বা ৯.৩৫ শতাংশ বেড়েছে। যার ফলে ডিএসইর দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্থান দখল করে নিয়েছে কোম্পানিটি। দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফার্মা এইড-এর শেয়ার দর বেড়েছে আগের দিনের তুলনায় ৩৫ টাকা বা ৭.৪৪ শতাংশ। আর দুই টাকা ৪০ পয়সা বা ৭.২৩ শতাংশ দর বৃদ্ধি হওয়ায় শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা নিয়েছে ঢাকা ইন্স্যুরেন্স।
ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে ছিল আফতাব অটোমোবাইলস ৭.১৪ শতাংশ, দেশ গার্মেন্ট ৬.৭৩ শতাংশ, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স ৬.৫৭ শতাংশ, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ৬.৫১ শতাংশ, এম এল ডাইং ৬.১০ শতাংশ, সাউথইস্ট ব্যাংক ৫.৮৮ শতাংশ ও ন্যাশনাল ব্যাংক ৫.৭১ শতাংশ দর বেড়েছে।
লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০১টির দর কমেছে। ২ মে সবচেয়ে বেশি দর কমেছে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ফাইন্যান্সের। এ দিন কোম্পানিটির শেয়ার দর আগের দিনের তুলনায় ৩০ পয়সা বা ৮.৫৭ শতাংশ কমেছে। যার ফলে ডিএসইর দর পতনের শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে এই কোম্পানির শেয়ার। দর পতনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাফকো স্পিনিংয়ের দর কমেছে আগের দিনের তুলনায় ৭০ পয়সা বা ৭.০৭ শতাংশ। আর ৩৪ টাকা ৩০ পয়সা বা ৫.০৮ শতাংশ দর কমে যাওয়ায় পতনের শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে জায়গা নিয়েছে রেনউইক যজ্ঞেশ্বর।
দর পতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে পিপলস লিজিং ৫.০০ শতাংশ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল ৪.৯৬ শতাংশ, এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড ৪.৫৯ শতাংশ, আনলিমা ইয়ার্র্ন ৪.০৭ শতাংশ, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৪.০৭ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ৪.০০ শতাংশ এবং বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার ৩.৮৫ শতাংশ দর কমেছে। ●
অকা/পুঁবা/ফর/বিকাল/৩ মে, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 9 months আগে

