অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
দেশের শেয়ার বাজারে এক দিনের ব্যবধানে নিম্নমুখী প্রবণতায় চলে এসেছে। এ ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের শেয়ার বড় ভূমিকা পালন করেছে। এতে সার্বিক শেয়ার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
২৬ ফেব্রুয়ারি বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া প্রায় সব ক’টি ব্যাংকের শেয়ার দাম কমার পাশাপাশি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ফলে কমেছে সব ক’টি মূল্যসূচক। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মতো অন্য শেয়ার বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান। এমন পরিস্থিতিতে বাজারটিতেও মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি শেয়ার বাজারে দাম বাড়ার েেত্র বড় ধরনের দাপট দেখায় তালিকাভুক্ত ব্যাংক কোম্পানিগুলো। ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে ৩৩টির শেয়ার দাম বাড়ে। আর বাকি তিনটির শেয়ার দাম অপরিবর্তিত থাকে। ব্যাংকের এমন দাপটের ফলে মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়।
২৬ ফেব্রুয়ারি শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু প্রথম আধা ঘণ্টার লেনদেন শেষ হতেই একের পর এক ব্যাংকের শেয়ার দাম কমতে থাকে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বেশির ভাগ ব্যাংকের শেয়ার দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সার্বিক শেয়ার বাজারে। ফলে একদিকে দাম কমার তালিকা বড় হয়, অন্য দিকে সব ক’টি মূল্যসূচক কমে দিনের লেনদেন শেষ হয়।
২৬ ফেব্রুয়ারি তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে ২৩টির শেয়ার দাম কমেছে। বিপরীতে দাম বেড়েছে মাত্র ৪টির এবং ৯টির শেয়ার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর সব খাত মিলে ডিএসইতে ১২৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২০৮টির। এ ছাড়া ৬২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৫৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
২৬ ফেব্রুয়ারি সব ক’টি মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৬১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬০৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। সে হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৪৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা। লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার। টাকার অঙ্কে কোম্পানিটির ১৪ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফাইন ফুডসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৫৩ টাকার। ১২ কোটি ১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মিডল্যান্ড ব্যাংক।
দর বৃদ্ধির শীর্ষে বসুন্ধরা পেপার মিলস- দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে মোট ৩৯৭ টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এ দিন দর বৃদ্ধির ১২৭টি কোম্পানির মধ্যে শীর্ষে উঠে এসেছে বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেড। ২৬ ফেব্রুয়ারি এ দিন ডিএসইতে পেপার মিলস লিমিটেডের শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩ টাকা ৪০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়েছে।
দর বৃদ্ধির দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ১ টাকা ৯০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়েছে। দর বৃদ্ধির তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেডের শেয়ারদর বেড়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা বা ৮ দশমিক ০২ শতাংশ। ২৬ ফেব্রুয়ারি দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসা অপর কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে ফু ওয়াং ফুড লিমিটেড, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, রিলাইন্স ওয়ান দ্যা ফার্স্ট স্কিম অব রিলাইন্স ইন্স্যুরেন্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি, লিগ্যাসি ফুটওয়ার লিমিটেড, সালভো কেমিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড।
দর পতনের শীর্ষে মিডল্যাল্ড ব্যাংক- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল এই দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি। দিন শেষে মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসির শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের তুলনায় কমেছে ২ টাকা ১০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। তাতে দর পতনের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে কোম্পানিটি।
২৬ ফেব্রুয়ারি দর হারানোর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির শেয়ারদর আগের দিনের তুলনায় ৫০ পয়সা বা ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমেছে। আর শেয়ারদর ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে যাওয়ায় তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান নিয়েছে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। দিন শেষে দরপতনের তালিকায় উঠে আসা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, পাদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, মাইডাস ফাইন্যান্সিং পিএলসি, ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পিএলসি, তাসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং সিলভা ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড।
জাহিন স্পিনিংয়ের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ- শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি জাহিন স্পিনিং লিমিটেড ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর’২৪-ডিসেম্বর’২৪) অনিরীতি আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়। চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ০৮ পয়সা।
গত বছর একই সময়ে ১১ পয়সা লোকসান হয়েছিল। হিসাব বছরের প্রথম দুই প্রান্তিক মিলিয়ে তথা ৬ মাসে (জুলাই,২৪-ডিসেম্বর,২৪) প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ১৫ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ২০ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর কোম্পানির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২ টাকা ৭৮ পয়সা। ●
অকা/পুঁবা/ফর/রাত/২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 1 year আগে
