অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
সাম্প্রতিক সময়ের শাটডাউনের বড় প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে। এতে নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতির যে ভাবমূর্তি– সেটিও ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফআইসিসিআই বা ফিকি) এর সভাপতি জাভেদ আখতার মনে করেন, সাম্প্রতিক অচলাবস্থার অর্থনৈতিক প্রভাব প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের হতে পারে, যা আরও বাড়ছে।
দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন– বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) এর সভাপতি মাহবুবুল আলম বিজিএমইএ'র বরাত দিয়ে জানান, এই সংগঠনের সদস্য কারখানাগুলোতে ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতির পরিমাণ এখনো পর্যালোচনা করেনি নিট পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন- বিকেএমইএ, তবে শিল্পের অভ্যন্তরীণরা জানিয়েছেন, তারা বিপুল লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন।
রোববার (২৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ব্যবসায়ী নেতারা এসব তথ্য তুলে ধরেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিডা ভবনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইউনিলিভার বাংলাদেশেরও চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাভেদ আখতার বলেন, এফএমসিজির (ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুডস) সরবরাহব্যবস্থা এবং পরিচালন ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে, এই ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি ডলারের বেশি। আর্থিক প্রভাবের বাইরে দেশ যে ভাবমূর্তি–সংকটের মুখে পড়েছে, তা পরিমাপ করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে ফিকির সভাপতি বলেন, 'আমরা ২০১৩ সালের রানা প্লাজা বিপর্যয় ও ২০১৬ সালের সন্ত্রাসী হামলার পরবর্তী বিরূপ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে ১০ বছর সময় পার করেছি। কিন্তু, চলমান সামাজিক অস্থিরতা দেশের উন্নয়নযাত্রাকে অন্তত ১০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। এখন মনে হচ্ছে, আমরা সেই আগের জায়গায় ফিরে এসেছি।'
এই পরিস্থিতিতে, অর্থনৈতিক স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু সুপারিশ করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। এরমধ্যে ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার জন্য সহায়তা বাড়ানো, বন্দরে ক্ষতিপূরণ মাশুল মওকুফ করা, রাজস্ব কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধ করা এবং বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের আস্থা ফেরাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তারা।
ব্যবসায়ী নেতাদের মন্তব্য ও দাবিগুলো শোনার পর, সালমান এফ রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা সমাধান চান সার্বিকভাবেছে। এ এমন পাঁচটি সমস্যাকে চিহ্নিত করা হয়েসব সমস্যা চট্টগ্রাম বন্দর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ব্যাংকিং, তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত।
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অংশীজনদের সাথে ব্যবসায়ীদের উল্লেখ করা এসব সমস্যা সমাধানে আমরা পৃথক পৃথক সভা করব।
বন্দর-সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর বিষয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, ব্যবসায়ী নেতারা কনটেইনার জট, ডেমারেজের কথা বলেছেন। আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনসগুলোর সমস্যার কথা বলেছেন। আর ব্যাংকিংয়ের সমস্যার মধ্যে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো, ঋণের পুনঃতফসিল ও কম সুদে ঋণ সুবিধার দাবি জানিয়েছেন।
জরুরী পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী শাটডাউনের ক্ষেত্রে একটি বিকল্প ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এটি একটি ভালো পরামর্শ বলে মন্তব্য করেন সালমান।
অর্থনীতির বিভিন্ন খাত ও উপখাতের প্রায় ৫০ জন ব্যবসায়ী মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। শাটডাউন ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে দেশের রফতানিমুখী শিল্প, ব্যাংকিং সেবা, বীমা, লজিস্টিকস, অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ, ই-কমার্স, রাইড সার্ভিস, সফটওয়্যার ডেভেলপাররা-সহ সোশ্যাল কমার্সের ওপর নির্ভরশীল অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ছোট ব্যবসাগুলোর জন্য তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যে তাদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
সভাশেষে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, কর্মচারীদের বেতন দিতে ও ঋণ পরিশোধের কিস্তির মেয়াদ বাড়াতে ব্যবসায়ীদের ব্যাংক থেকে সহায়তা দিতে হবে। এছাড়া, ইউটিলিটি বল পরিশোধে সরকারি সহায়তা দরকার বলেও মনে করেন তিনি। ●
অকা/প্র/ই/সকাল, ২৯ জুলাই, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 2 years আগে

