অর্থকাগজ প্রতিবেদন>
দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায়। বিপুল এই খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, নতুন ঋণ বিতরণ এবং সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। এই ঋণ আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিয়মিত আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ঋণ আদায়ে বিশেষ তদারকি, বড় ঋণগ্রহীতাদের ওপর নজরদারি, আইনি প্রক্রিয়া জোরদার এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অনিয়ম রোধে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন, পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন প্রণয়ন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যাংক একীভূত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে ঋণ বিতরণে যথাযথ যাচাই-বাছাই, ঋণ পুনরুদ্ধারে আইনি কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিপুল খেলাপি ঋণ কমাতে শুধু আইনি ব্যবস্থা নয়, ঋণ অনুমোদন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করাও জরুরি। অন্যথায় খেলাপি ঋণের চাপ ব্যাংকগুলোর মূলধন সক্ষমতা এবং অর্থনীতিতে ঋণপ্রবাহ—উভয়ের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 5 hours আগে

