অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
জিএসপির আওতায় ইউরোপজুড়ে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পায় বাংলাদেশ। ইউরোপ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার।
পরোক্ষ-প্রত্যক্ষ যুদ্ধের কারণে কয়েক বছর ধরে ইউরোপে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। সেখানে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। মানুষ খরচ কমাতে ব্যয় কমিয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে তৈরি পোশাক রফতানিতে। এ সময় বাংলাদেশেও বৈরী অবস্থা বিরাজ করছে। তারপরও ইউরোপে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রফতানি ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।
২০২৩-২৪ অর্থ বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর এ দশ মাসে ইউরোপে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট সাত হাজার ৭৭৭ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এক শতাংশের কিছু কম। আগের বছর ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর ১০ মাসে পোশাক রফতানি হয়েছিল সাত হাজার ৭৩৩ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ডলারের।
ইউরোপের বাজারে প্রধান তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ চীন, দ্বিতীয় বাংলাদেশ। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রতিকূলতার পরও এক শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে এ খাত। এ সময় ইউরোপে চীনের রফতানি বেড়েছে ১ দশমিক ১৪ শতাংশ। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে এক দশমিক ৪৩ শতাংশ। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ পোশাক রফতানিকারক দেশ তুরস্কের রফতানি সংকুচিত হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর এ ১০ মাসে চীন ইউরোপে তৈরি পোশাক রফতানি করেছে ২ হাজার ১৮২ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ডলারের। আগের বছর রফতানি করেছিল দুই হাজার ১৫৮ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের পোশাক।
ইউরোপে দ্বিতীয় পোশাক রফতানিকারক দেশ বাংলাদেশ। গত দশ মাসে ইউরোপে তৈরি পোশাক রফতানি করেছে এক হাজার ৬৫২ কোটি ২৬ লাখ ডলারের। আগের বছরের একই সময় রফতানি হয়েছিল এক হাজার ৬২৮ কোটি ৯৫ লাখ ১০ হাজার ডলারের পোশাক।
ইউরোপে তৃতীয় পোশাক রফতানিকারক দেশ তুরস্ক রফতানি করেছে ৮৫৯ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই সময় রফতানি হয়েছিল ৯১০ কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার ডলার। ২০২৪ জানুয়ারি থেকে অক্টোবর ১০ মাসে আগের বছরের চেয়ে রফতানি কমেছে।
করোনা পরবর্তী ইউরোপে তৈরি পোশাক রফতানি বেড়েছিল। কিন্তু এক বছর না যেতেই ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে পুরো ইউরোপ উচ্চ মূল্যস্ফীতির কবলে পড়ে। এতে মানুয়ের জীবন নির্বাহের খরচ বেড়ে যায়। ফলে মানুষ পোশাক কেনা কমিয়ে দেয়। কিন্তু ইউরোপে মূল্যস্ফীতি স্থিতিশীল হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে ইতিবাচক ধারাতে ফেরা শুরু করেছে। একই সময় বাংলাদেশে উচ্চ জ্বালানি মূল্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কবলে পড়ে। এর মধ্যেও প্রধান রফতানি বাজার ইউরোপে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়।
বিষয়টি মন্দের ভালো মনে করছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। তবে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা ও ইউরোপের বাজারে জিএসপি সুবিধা পাওয়া দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আরও ভালো করার সুযোগ ছিল বলে তারা মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি-বিজিএমইএয়ের সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ইউরোপের বাজারে তৈরি পোশাক রফতানি যে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে তা খুবই সামান্য। ইউরোপে আমাদের ১০ থেকে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থাকে। সেখানে শুল্কবিহীন, কোনো ট্যাক্স দেওয়া লাগে না, তারপরও যদি ভালো করতে না পারি- তাহলে তো হলো না। ইউরোপের বাজারে আমরা প্রথম দ্বিতীয় থাকবো, এটাই স্বাভাবিক। সেই হিসেবে আমাদের চেয়ে অন্যদের কাছে থেকে তৈরি পোশাক বেশি কিনছে।
আমরা প্রতিযোগিতায় টেকার জন্য বা ভালো করার জন্য বা ক্যাপাসিটি পূরণ করার জন্য কম প্রাইজেও কার্যাদেশ নিচ্ছি। আমি মনে করি, ইউরোপে আমাদের আরও ভালো করা উচিত।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদা কমে গিয়েছিল। আবার প্রতিযোগিতাও বেড়ে গিয়েছিল। তার মানে হলো আমাদের ক্যাপাসিটি আগের মতোই রয়ে গেছে। ওদের ইমপোর্ট কমে গেছে। এতে আমাদের ক্যাপাসিটি পূরণ করার তাগিদ অনেক বেশি হয়ে গেছে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ওরা তো চাইবেই কম দামে পোশাক কিনতে, সেটা আমিও চাইবো। তাই হয়েছে। তুলনামূলক কম প্রাইজে কার্যাদেশ নিতে হয়েছে। এর ফলে যে উৎপাদন করেছি তাতে মোট রফতানি আয়ে আরও খানিক প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারতো।
বৈশ্বিক বাজারে তৈরি পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম। দেশটি ইউরোপে পোশাক রফতানিতে ছয় নম্বরে। বাংলাদেশ যেখানে দুই নম্বরে। তবে জানুয়ারি থেকে অক্টোবরে ভিয়েতনাম বাংলাদেশের দ্বিগুণ ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করেছে। যদিও বাংলাদেশ সাড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি করলেও ভিয়েতনামের রফতানি সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার। ফলে বাংলাদেশের আরও সতর্ক হওয়া ও তৈরি পোশাক রফতানির দক্ষতাকে কাজে লাগানো প্রয়োজন। ●
অকা/শিবা/ফর/সকাল/২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 1 year আগে

