অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাজেটে এসব পণ্যে ১-২ শতাংশ হারে উৎসে কর তথা অগ্রিম আয়কর (এআইটি) বসাচ্ছে সরকার। এদিকে সব পণ্যে একই হারে কর বসানো হতে পারে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া ভুটান থেকে আমদানি হওয়া ৩৩টি পণ্যেও উৎসে কর নেই। ২০১৩ সালে সরকার টু সরকার চুক্তি অনুযায়ী ভুটানের এসব পণ্য সব ধরনের কর ও শুল্কমুক্ত।
এনবিআর বলছে, ১৮৯টি আমদানি পণ্যে উৎসে কর বসালেও পণ্যমূল্য বাড়বে না। অগ্রিম নেয়া কর পরবর্তী সময়ে সমন্বয় (ক্রেডিট দেবে এনবিআর) করা হবে। ধাপে ধাপে কর ছাড় তুলে নেয়া ও কর পরিপালন বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এ পদপে নেয়া হচ্ছে। এতে রাজস্ব-ভিত্তি সম্প্রসারিত হবে। তবে আমদানি পণ্যে অগ্রিম আয়কর নিলে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত ও ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা শিল্পগুলো আরো সংকটে পড়বে।
এ প্রসঙ্গে এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘আমদানি পণ্যে উৎস কর থাকা উচিত নয়। এতে পণ্যমূল্য অবশ্যই বাড়বে। ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা উৎসে কর বিলোপ চান। রাজস্ব বোর্ডও জানে এটি উত্তম কর চর্চা নয়।’ শুধু রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যেসব পণ্য উৎসে করের আওতায় আসবে তার মধ্যে রয়েছে পোশাক শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল তুলা ও মানবসৃষ্ট তন্তু। আলু, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, চিনি, ময়দা, ছোলা ও ভুট্টার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য। চিকিৎসা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে হুইলচেয়ার, এনজিওগ্রাফিক ও গাইড ক্যাথেটার, কৃত্রিম দাঁত, হিয়ারিং এইড ইত্যাদি। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কিং ডিভাইস, কম্পিউটারের মনিটর, প্রিন্টারের রিবন, রাউটার, মডেম, টোনার, অপরেটিং সিস্টেমস ইত্যাদি। এছাড়া শিল্প খাতে ব্যবহৃত রাসায়নিক, বিমান, বাস, মাছ ও মাংস উৎসে করের আওতায় আসবে।
এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে ১৮৯টি পণ্যে আমদানির সময় কোনো ধরনের উৎসে কর নেই। কর ছাড় ধাপে ধাপে তুলে নেয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা সম্ভবত দুই-একটি ব্যতিক্রম বাদে প্রায় সব পণ্যের ওপর এআইটি আরোপ করতে যাচ্ছি।’
উদ্যোক্তারা বলছেন, কর ফেরতের বিধান থাকলেও বাস্তবে তা প্রায় অসম্ভব। ফলে ব্যবসায়ীদের সামনে দুটি পথ খোলা থাকে- হয় পণ্যের দাম বাড়ানো, নয় লোকসান মেনে নেয়া।
নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন, শূন্য-কর সুবিধা থেকে সরে আসার অন্যতম কারণ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপ। যদিও এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, করদাতাদের সুবিধার জন্যই অগ্রিম কর চালু করা হয়েছে। কিস্তিতে তারা কর পরিশোধ করতে পারেন, যা বছর শেষে সমন্বয় করা হয়।
আয়কর আইনের ১৫৫ ধারায় বলা হয়েছে, অগ্রিম কর হিসেবে পরিশোধযোগ্য ন্যূনতম কর চারটি সমান কিস্তিতে পরিশোধ করা যায়। এর মধ্যে অর্থ বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৫ ডিসেম্বর, ১৫ মার্চ ও ১৫ জুন প্রতি কিস্তিতে অগ্রিম করের ২৫ শতাংশ করে পরিশোধ করা যায়। এছাড়া আইনে ৫৩ ধরনের উৎসে কর কর্তনের কথা বলা হয়েছে। এগুলো অগ্রিম কর হিসেবেই কাটা হয়। অগ্রিম কর নেয়া হলেও ফেরত দেয়া হয় নাÑ ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে এনবিআরের কাস্টমসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ অভিযোগ আংশিক সত্য, তবে বেশির ভাগই অর্ধসত্য। একদিকে ফেরত পাবে না ধরে নিয়ে তারা পণ্যের দাম বাড়িয়ে তা উসুল করে, ফলে পরে যা ফেরত পান তাও তাদের লাভ।’
এনবিআর-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে অগ্রিম কর আদায়ের সংস্কৃতি বেশ পুরনো। ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই রাজস্ব আহরণে এর চর্চা হয়ে আসছে। সহজে রাজস্ব আহরণের জন্য এটি বেশ কার্যকর পদ্ধতি। ●
অকা/আখা/ফর/বিকাল/২৭ মে, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 9 months আগে

