অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। তবে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সংস্থাটি বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে। ফ্যামিলি কার্ড ও খোলা ট্রাক বিক্রয় কার্যক্রমের আওতায় চিনি, সয়াবিন তেল ও ডাল সরবরাহে প্রায় ১,৪১২ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
এই ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের অনুরোধ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। ২২ ফেব্রুয়ারি পাঠানো ওই চিঠিতে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন, চলতি অর্থবছরে আমদানিকৃত পণ্যের ব্যয়, স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহমূল্য, পরিবহন ও সংরক্ষণ খরচ এবং বিক্রয়মূল্য—সবকিছু নিরীক্ষা করে ভর্তুকির দাবি নির্ধারণ করা হয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দাবি করা অর্থ যৌক্তিক বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর অংশ হিসেবে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বর্তমানে ৪৫ লাখেরও বেশি পরিবারকে কভার করছে। কার্ডধারীরা প্রতি মাসে নির্ধারিত পরিমাণে দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি ডাল, এক কেজি চিনি ও পাঁচ কেজি চাল ভর্তুকি মূল্যে সংগ্রহের সুযোগ পান। বিশেষ সময়ে তালিকায় অতিরিক্ত পণ্যও যুক্ত হয়। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি বা সরবরাহ সংকটের মতো পরিস্থিতিতে খোলা ট্রাকের মাধ্যমে নগর ও জেলা পর্যায়ে পণ্য বিক্রি করা হয়—যদিও সেখানে দাম তুলনামূলক কিছুটা বেশি রাখা হয়।
টিসিবির নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য বাজারদরের তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ৭০ টাকা এবং মসুর ডাল প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, পরিবহন ও গুদামজাত ব্যয় এবং ডিলার কমিশন—সব মিলিয়ে প্রকৃত ব্যয় বিক্রয়মূল্যকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতিটি ইউনিট বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক ঘাটতি বাড়ছে।
টিসিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, শুধু এই তিন পণ্য নয়—রমজানকালীন বিশেষ সরবরাহ, চাল, পেঁয়াজসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যে বার্ষিক মোট ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়। তবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় সয়াবিন তেল, চিনি ও ডালের ভর্তুকি আলাদাভাবে হিসাব করা হয়, যাতে প্রকৃত ঘাটতির চিত্র স্পষ্ট থাকে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সময়মতো ভর্তুকির অর্থ ছাড় না হলে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য আমদানি বা স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে, যা সরাসরি নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব ফেলবে।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে টিসিবির ভর্তুকি কার্যক্রম সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর আর্থিক টেকসইতা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মিত অর্থ ছাড়, দক্ষ ক্রয়ব্যবস্থা এবং ব্যয়ের স্বচ্ছ নিরীক্ষা ছাড়া এই কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা কঠিন হতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ●
অকা/প্র/ই/সকাল/২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ
সর্বশেষ হালনাগাদ 3 hours আগে

