অর্থকাগজ প্রতিবেদন
এপ্রিলে রফতানি আয়ে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেলেও এ নিয়ে খুব একটা উচ্ছ্বসিত নন রফতানিকারকরা। তাদের মতে, এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশই তুলনামূলক ভিত্তির কারণে—গত বছরের একই সময়ে ঈদের ছুটি থাকায় রফতানি কম হয়েছিল। সেই নিম্নভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই এবার সংখ্যাটা বেশি দেখাচ্ছে। বাস্তব হিসেবে প্রবৃদ্ধি ৮ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে ধারণা তাদের।
রফতানি বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, গত বছর মার্চের শেষে ঈদ হওয়ায় এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহজুড়ে কারখানাগুলো বন্ধ ছিল, ফলে সে সময় রফতানি কমে যায়। এবার পুরো মাস উৎপাদন ও শিপমেন্ট সচল থাকায় পরিসংখ্যানে বড় অঙ্ক দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ক্রেতা আগে অর্ডার স্থগিত রেখেছিলেন। নির্বাচন শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ক্রেতাদের আস্থা ফিরেছে, যার প্রভাব এপ্রিলে রফতানিতে পড়েছে। তবে তার মতে, মে মাসে প্রবৃদ্ধি খুব বেশি হবে না, আর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতি শান্ত হলে জুন থেকে কিছুটা গতি ফিরতে পারে।
বিকেএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফজলে শামীম এহসান জানান, আগের কয়েক মাস অর্ডার কম থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের মজুত কমে গিয়েছিল। এপ্রিল-মে সময়ে সাধারণত শীতকালীন পোশাকের অর্ডার বাড়ে—এই মৌসুমি কারণও রফতানি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, মে মাসে ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে। পাশাপাশি নতুন অর্ডারের গতি এখন ধীর, ফলে জুনের পর প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পুরো পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অবস্থার ওপর।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেন, এপ্রিলের প্রবৃদ্ধি মূলত আগের মাসের ঘাটতির প্রতিফলন। মার্চে ঈদের ছুটির কারণে প্রায় ১০ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় অনেক পণ্যের শিপমেন্ট পিছিয়ে যায়, যা এপ্রিলের হিসাবে যুক্ত হয়েছে।
তার মতে, নতুন করে অর্ডার বেড়েছে—এমন কোনো লক্ষণ শিল্পে দেখা যাচ্ছে না। বরং চলতি মাসের শেষ দিকে আবার ছুটি থাকায় উৎপাদন ও রফতানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রকৃত প্রবণতা বুঝতে হলে জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করাই যৌক্তিক।
প্রসঙ্গত, টানা আট মাসের নিম্নমুখী ধারা কাটিয়ে এপ্রিলেই রফতানি আয় ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বছরওয়ারি হিসাবে আয় বেড়েছে প্রায় ৩২.৯২ শতাংশ, যা দাঁড়িয়েছে ৪০১ কোটি ডলারে। মাসিক ভিত্তিতেও আগের মাসের তুলনায় ১৫.২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে রফতানি আয়। তবে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উল্লম্ফনের পেছনে কাঠামোগত শক্তি যতটা না, তার চেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে সময়ভিত্তিক প্রভাব।
সর্বশেষ হালনাগাদ 7 hours আগে

