অর্থকাগজ প্রতিবেদন
নির্ধারিত সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করলে ব্যাংকগুলো এখন থেকে আগের তুলনায় অনেক কম হারে দণ্ড সুদ আরোপ করতে পারবে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ঋণ বা কিস্তি মেয়াদোত্তীর্ণ হলে সর্বোচ্চ ০.৫ শতাংশ হারে দণ্ড সুদ নেওয়া যাবে। আগে এই হার ছিল ১.৫০ শতাংশ।
এ বিষয়ে বুধবার নতুন সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দণ্ড সুদের হার ১.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করে নির্দেশনা দিয়েছিল।
নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোনো ঋণ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচিত হলে, সেই সময়ের জন্য চলতি ও তলবি ঋণের পুরো স্থিতির ওপর এবং মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে বকেয়া কিস্তির ওপর সর্বোচ্চ ০.৫ শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ করা যাবে।
ব্যাংকারদের মতে, সাধারণত দণ্ড সুদের মূল উদ্দেশ্য হলো ঋণগ্রহীতাদের সময়মতো কিস্তি পরিশোধে বাধ্য করা। কারণ অতিরিক্ত সুদের চাপ থাকলে গ্রাহকেরা ঋণ পরিশোধে বেশি সতর্ক থাকেন। ফলে দণ্ড সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোর জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এমন সিদ্ধান্তে খেলাপি ঋণের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাত এমনিতেই উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণের চাপে রয়েছে। এর মধ্যে বিলম্বজনিত আর্থিক চাপ কমে গেলে অনেক গ্রাহক সময়মতো ঋণ পরিশোধে আগ্রহ হারাতে পারেন।
বেসরকারি একটি ব্যাংকের একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বর্তমানে ঋণের সুদের হার প্রায় সাড়ে ১৪ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। দণ্ড সুদ কমে যাওয়ায় অনেক ব্যাংক হয়তো মূল সুদের হার বাড়িয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। শেষ পর্যন্ত এর বাড়তি চাপ গ্রাহকদের ওপরই পড়তে পারে।
আরেকটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনে করেন, এই নীতি ব্যাংকের মুনাফিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তার ভাষ্য, যারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করেন না, তারাও এতে উৎসাহিত হতে পারেন।
খাতসংশ্লিষ্ট আরেকজন ঊর্ধ্বতন ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া মানেই ব্যাংকের জন্য বাড়তি ঝুঁকি ও প্রশাসনিক জটিলতা। এখন দণ্ড সুদ কমে যাওয়ায় বিলম্বকারীদের খরচ আরও কমে গেল। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ চিহ্নিত করার সময়সীমা তিন মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশ সেটি ছয় মাস করার দাবি জানাচ্ছে, তবে এতে খেলাপি ঋণের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, সামনে ব্যাংকগুলোকে আইএফআরএস-৯ অনুসরণ করতে হবে। এই মানদণ্ড কার্যকর হলে সম্ভাব্য লোকসান আগেভাগেই হিসাবভুক্ত করতে হবে, ফলে খেলাপি ঋণ গোপন রাখার সুযোগ কমে যাবে।
আইএফআরএস-৯ হলো আন্তর্জাতিক হিসাবমান নির্ধারণকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড প্রণীত একটি বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিবেদন মান। এর মাধ্যমে আর্থিক সম্পদ ও দায়ের শ্রেণিবিন্যাস, মূল্যায়ন এবং সম্ভাব্য ক্ষতির হিসাব আগাম নির্ধারণের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়।
সর্বশেষ হালনাগাদ 9 hours আগে

