অর্থকাগজ প্রতিবেদন

টানা দরপতনে আতঙ্কে দিন কাটছে বিনিয়োগকারীদের। সূচকের অব্যাহত পতনে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে। তাদের পিঠ রীতিমতো দেওয়ালে ঠেকে গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, যে বাজারে কারসাজির সঙ্গে উদ্যোক্তারা সরাসরি জড়িত থাকে, সে বাজার কীভাবে ভালো হয়? অনেক সিকিউরিটিজ হাউজ নিয়ম ভঙ্গ করে বিনিয়োগকারীদের বেশি মার্জিন ঋণ দিচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এসব দেখতে হবে। মার্কেটে শৃঙ্খলা না থাকলে বাজার কখনো আগাবে না। সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, শেয়ার বাজারে যেখানে ক্যাপিটাল (মূলধন) রক্ষা করা যায় না, সেখানে ক্যাপিটাল গেইনে ট্যাক্স বসানোর কথা বলা হচ্ছে? এসব কারণে বাজার নিয়ে আস্থা হারাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা।

২০২১ সালের ১০ অক্টোবর প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ছিল ৭ হাজার ৩৬৭ পয়েন্ট। তিন বছর ৭ মাস ৯ দিন পর গতকাল ১৯ মে (রোববার) ডিএসইর সূচক কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৩১ পয়েন্টে। এই সময়ের মধ্যে সূচক কমে গেছে ১ হাজার ৯৩৬ পয়েন্ট।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলোচ্য সময়ে শেয়ার বাজারে ১৫টির বেশি নতুন কোম্পানির শেয়ার তালিকাভুক্ত হয়েছে। এসব কোম্পানির শেয়ার সূচকে যোগ হয়েছে। যদি কোম্পানিগুলোর শেয়ার সূচক থেকে বাদ দেওয়া হয়, তাহলে ডিএসইর সূচকের পতন দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ২০০-এর বেশি।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ছিল ৫ হাজার ৬৯৬। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫১৭ পয়েন্টে। ওই সপ্তাহে সূচক কমে যায় ১৭৯ পয়েন্ট। এ সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সূচক পড়ে গেল আরও ৮৬ পয়েন্ট।

এদিকে টানা এ দরপতনে বাজার নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশের শীর্ষ একটি ব্রোকারেজ হাউজের একজন বিনিয়োগকারী বলেন, কী করব ভেবে পাচ্ছি না? বাজারে এখন অনেক ভালো শেয়ারের দরও কমে যাচ্ছে। লোকসান গুণতে গুণতে পিঠ একদম দেওয়ালে ঠেকে গেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এই বাজার কি আর ভালো হবে না?

এ প্রসঙ্গে পুঁজি বাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, এই মন্দা বাজারেও অনেক শেয়ার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে। আর কারসাজির সঙ্গে উদ্যোক্তারাই জড়িত থাকে। তাহলে কীভাবে এই বাজার ভালো হবে? তিনি বলেন, অনেক সিকিউরিটিজ হাউজ নিয়ম না মেনে বিনিয়োগকারীদের বেশি পরিমাণে মার্জিন ঋণ দিচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এসব নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। আবু আহমেদ বলেন, যে বাজারে ক্যাপিটাল রক্ষা করা যায় না, সেখানে ক্যাপিটাল গেইনে ট্যাক্স বসানোর কথা বলা হচ্ছে। এসব কারণে বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাজারের এ অবস্থা যে কোনো সময় ঘুরে দাঁড়াবে। কারণ, অনেক ভালো ভালো কোম্পানির শেয়ারের দাম এখন অনেক কম। এসব শেয়ারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করলে ভালো রিটার্ন পাওয়া যাবে।

বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পুঁজি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, বর্তমানে বাজারে যে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে তা দূরীকরণে বাজার মধ্যস্থতাকারীদের এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে যদি কোনো নীতিগত সহায়তা দরকার হয়, তাহলে কমিশন তা বিবেচনা করবে।

অকা/পুঁবা/সৈই/সকাল/২০ মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ

সর্বশেষ হালনাগাদ 2 years আগে

Leave A Reply

Exit mobile version