অর্থকাগজ প্রতিবেদন ●
বীমা প্রতিষ্ঠানটিকে সুশৃঙ্খল ও নিয়মের মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশেষ পরিদর্শন দলকে তথ্য না দিলে সংশ্লিষ্ট বীমা কম্পানির নিবন্ধন বাতিল কিংবা প্রশাসক নিয়োগের মতো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
এমন বিধান রেখে পরিদর্শন ও তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা প্রবিধানমালার ২০২১-এর একটি খসড়া চূড়ান্তÍ করেছে আইডিআরএ।
আইডিআরএর লাইফ ও নন-লাইফ বিধি/প্রবিধান বিষয়ক খসড়া চূড়ান্ত করা হয় সম্প্রতি। খুব দ্রুত এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে বলে আইডিআরএ সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ সময়ে সময়ে বীমাকারীর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য একজন দলনেতাসহ এক বা একাধিক পরিদর্শক দল গঠন করে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। পরিদর্শক দল বীমাকারীর অঙ্গ প্রতিষ্ঠানসহ (সাবসিডিয়ারি, অ্যাসোসিয়েট প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি) যেকোনো কার্যালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কিত সরেজমিনে লিখিত বা মৌখিক অধিযাচনের মাধ্যমে পরীক্ষা করতে পারবে।
এই বিষয়ে একটি বীমা প্রতিষ্ঠানটিকে সম্পূর্ণভাবে আইডিআরএর তদন্তদলকে সহযোগিতা করতে হবে। নতুবা সেই প্রতিষ্ঠানটি অপরাধের শামিল হবে। যদি সেই প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন পরিচালনা অসহযোগিতা করলে, তদন্ত কাজে বিঘœ সৃষ্টি করলে, কর্তৃপক্ষ অথবা তদন্তদল কর্তৃক চাহিত তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হলে, চাওয়া তথ্যাদি প্রদানে অহেতুক বিলম্ব করলে এবং কর্তৃপক্ষের শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা উপেক্ষা করলে বীমা প্রতিষ্ঠানটি অপরাধের শামিল হবে।
আবার পরিদশন প্রতিবেদনের বিষয়ে বীমাকারীর লিখিত ব্যাখ্যা এবং শুনানিতে উত্থাপিত বক্তব্যে কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট না হলে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান মোতাবেক কর্তৃপক্ষ বীমাকারীকে অভিযুক্ত করতে পারবে। ফলে অপরাধের জন্য আইনের ধারা ১০, ৫০, ৯৫, ১৩০, ১৩১, ১৩৪ এর বিধান মোতাবেক কর্তৃপক্ষ যেইরূপ উপযুক্ত মনে করবে সেরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
বীমা আইনে বলা হয়েছে, বীমা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট না হলে কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে বীমাকারীর নিবন্ধন সনদ বাতিল করবে এবং সন্তুষ্ট হলে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতে পারবে। একই ধারার উপধারায় আরো বলা হয়েছে, এই ধারার অধীন কোনো নিবন্ধন সনদ বাতিল করলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষ লিখিত নোটিশ দিয়ে বীমা প্রতিষ্ঠানকে সিদ্ধান্ত অবগতও করবে। অধীন পরিদর্শন পরিচালনায় অসম্মতি জ্ঞাপন করলে কিংবা কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে অপরাধী সাব্যস্ত হলে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদ-ে এবং অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদ-ে দ-িত করা হবে। অন্যদিকে বীমা আইন ২০১০ ’র ধারা ৯৫ এ বীমা ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় প্রশাসক নিয়োগের বিধান রয়েছে। আর ১৩০ ধারায় এই আইন পরিপালনে ব্যর্থতা কিংবা লঙ্ঘনজনিত কর্মকা-ের জন্য জরিমানা আরোপের বিধান বর্ণিত হয়েছে। এ ছাড়া দলিল, বিবরণী, হিসাব, রিটার্ন ইত্যাদিতে মিথ্যা তথ্য প্রদানের শাস্তি হিসেবে ১৩১ ধারায় অনধিক তিন বছরের কারাদ- অথবা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা অর্থদ- বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। আর ১৩৪ ধারায় আইনের বিধান পালনে ব্যর্থতা কিংবা লঙ্ঘনজনিত কর্মকা-ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জরিমানার বিধান হয়েছে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 5 years আগে
