বিনোদন প্রতিবেদক
বিশ্বজুড়ে আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে জীবন্ত ব্রিটিশ রাজবধূ প্রিন্সেস ডায়ানা। তাঁর বর্ণিল অথচ নানা ট্র্যাজেডিতে ভরপুর জীবন ও রাজপরিবারের অন্দরমহলের বহু না বলা কথা নিয়ে এবার কলম ধরেছেন তাঁরই ছোট ভাই আর্ল চার্লস স্পেন্সার। ডায়ানার প্রয়াণের প্রায় তিন দশক পূর্তিকে সামনে রেখে তাঁর ভাইয়ের এই নতুন বই প্রকাশের ঘোষণা আসার পর আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও বিনোদন অঙ্গনে তীব্র কৌতূহল ও আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের মনে ডায়ানার আবেদন এতটুকু ম্লান হয়নি, বরং সময়ের সাথে সাথে তা আরও গভীর হয়েছে। আগামী ২২শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বইটির প্রকাশের দিন হিসেবে ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে।
১৯৮১ সালের এক জাঁকজমকপূর্ণ রাজকীয় আয়োজনে তৎকালীন ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তরুণী ডায়ানা স্পেন্সার। বিশ্ববাসীর নজর কেড়ে নেওয়া সেই রূপকথার মতো বিয়েটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। চারদিকে রাজকীয় আভিজাত্য আর আলোর রোশনাইয়ের নিচে চাপা পড়েছিল এক তরুণীর ব্যক্তিগত জটিলতা ও মানসিক সংগ্রামের গল্প। সেই জৌলুসপূর্ণ রাজপ্রাসাদের কঠোর প্রটোকল আর ব্যক্তিগত জীবনের নানা টানাপোড়েনে সেই সংসার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে রাজপরিবারের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক পেছনে ফেলে ১৯৯৬ সালে প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে তাঁর আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ ঘটে। ব্যক্তিগত জীবনের চরম হতাশা ও রাজকীয় জটিলতাকে পেছনে ফেলে ডায়ানা নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করেছিলেন মানবসেবায়। বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং দাতব্য কাজের জন্য তিনি ভূষিত হয়েছিলেন ‘কুইন অব হার্টস’ বা হৃদয়ের রানি হিসেবে।
"ডায়ানাকে নিয়ে প্রতিনিয়ত নানা জল্পনা ও ভুল তথ্যের পরিবেশনা আমার মনে গভীর অস্বস্তির জন্ম দিত। তাই নিজের শৈশবের স্মৃতি, বোনের সঙ্গে আজীবন গভীর বন্ধন এবং রাজপ্রাসাদের ভেতরের প্রকৃত সত্য তুলে ধরতেই এই বই লেখা।" — চার্লস স্পেন্সার
ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঝঞ্ঝা কাটিয়ে যখন তিনি নতুনভাবে জীবনকে গুছিয়ে নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট প্যারিসে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আকস্মিকভাবে না ফেরার দেশে চলে যান প্রিন্সেস ডায়ানা। তাঁর এই অকালমৃত্যু পুরো পৃথিবীকে স্তব্ধ ও শোকাহত করে দিয়েছিল। লাখো মানুষের চোখের জলে বিদায় নেওয়া সেই প্রিয় রাজবধূর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় তাঁর ভাই চার্লস স্পেন্সার যে আবেগঘন ও জোরালো বক্তব্য রেখেছিলেন, তা আজও ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁর সেই বিদায়ী ভাষণে ব্রিটিশ রাজপরিবারের কড়া সমালোচনা এবং ডায়ানার প্রতি বিশ্ববাসীর ভালোবাসার প্রকৃত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল।
প্রিন্সেস ডায়ানার জীবন নিয়ে গত তিন দশকে কম লেখালেখি হয়নি। তবে তাঁর সম্পর্কে প্রচলিত অনেক ভুল তথ্য ও ভুল ধারণার অবসান ঘটাতে এবার নিজের স্মৃতির পাতা থেকে সত্য তুলে ধরতে চলেছেন চার্লস স্পেন্সার। আগামী মাসে বিশ্ববাজারে আসতে চলা তাঁর এই স্মৃতিকথার নাম রাখা হয়েছে ‘সোয়ান সং : ডায়ানা, মাই সিস্টার’ (Swan Song: Diana, My Sister)। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউসের অধীন মাইকেল জোসেফ থেকে প্রকাশিত হতে যাওয়া এই বইটি সম্পর্কে চার্লস স্পেন্সার আশা প্রকাশ করেছেন যে, এটি তাঁর বোনের আসল রূপ এবং রাজপরিবারের অন্দরমহলের বহু অজানা ও অমীমাংসিত অধ্যায় পাঠকদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে। বইটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে ডায়ানাপ্রেমী ও পাঠকদের মাঝে এক অভূতপূর্ব সাড়া ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ হালনাগাদ 4 hours আগে

